ডেস্ক রিপোর্ট
১৯ মার্চ ২০২২, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: খুলনায় নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনের আমিরসহ ১০ সদস্যকে আটক করেছে র্যাব-৬। শনিবার রাতে নগরীর খালিশপুর এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। র্যাবের দাবি, আটক ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘জেএমবি’ মতাদর্শীর নতুন সংগঠন ‘জামআতুল মুসলেমিন’ এর সদস্য।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- আনোয়ার কবির মিলন ওরফে মিদ্দাত হোসেন (৫০), সোহেল রানা (৩০), আমিনুল (৩৮), কামরুল ইসলাম (৫৫), রিফাত রহমান (২৪), আবদুুর রউফ (৬২), শেখ ফরিদ (২৭), আবদুল আলীম (৫০), রফিকুল ইসলাম (৪৬) এবং তালহা ইসলাম ওরফে গণ (১৯)। এর মধ্যে আনোয়ার কবির মিলন ওরফে মিদ্দাত হোসেন নতুন সংগঠনের আমির।
নতুন জঙ্গি সংগঠন ও আটকদের বিষয়ে জানাতে শনিবার দুপুরে র্যাব-৬ এর সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে র্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মুশতাক আহমেদ জানান, সংগঠনটির স্বঘোষিত আমির আনোয়ার কবির মিলন ওরফে মিদ্দাত হোসেন ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে লেখাপড়া করেন। লেখাপড়া শেষ করে বাংলাদেশে ফিরে আসলে তার সঙ্গে ভোলা-চরফ্যাশন এলাকার অধ্যাপক মজিদের সঙ্গে পরিচয় হয়। অধ্যাপক মজিদ তৎকালীন জেএমবির আমির শায়খ আবদুর রহমান এবং শায়খ সাইদুর রহমানের অনুসারী ছিলেন।
তিনি জানান, মিদ্দাত হোসেন সৌদি আরব থেকে ফেরার পর মজিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে মজিদের কাছে জেএমবির বায়াত গ্রহণ করে। সে সময়ে মিদ্দাত হোসেনের সঙ্গে জেএমবির অনেক সদস্যের পরিচয় ঘটে। সন্দেহভাজন জঙ্গি কার্যক্রমের জন্য ২০১২ সালে ডিবি পুলিশ মিদ্দাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে মিদ্দাত হোসেন একটি নিজস্ব সংগঠন তৈরি করার ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
ব্রিফিংয়ে র্যাব অধিনায়ক দাবি করেন, ২০১৮ সালে অধ্যাপক মজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কিছু ব্যক্তি মিদ্দাত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সংগঠন তৈরির পরিকল্পনা করেন। এ জন্য দাওয়াত দেওয়া শুরু করেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের একটি বড় অংশকে নিজেদের দলে ভেড়ানো এবং পরবর্তীতে সশস্ত্র জিহাদের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মিদ্দাত হোসেন এবং তার সহযোগীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সূরা সদস্য নিয়োগ করে প্রতিটি এলাকা থেকে সাথী সদস্য সংগ্রহের কাজ করে যাচ্ছিল। বর্তমানে টাঙ্গাইল, গাজীপুর, যশোর, খুলনা, ময়মনসিংহ এবং ঢাকায় তাদের রিক্রুটমেন্ট কার্যক্রম ব্যাপক আকারে চলছে। এর প্রেক্ষিতে খুলনায় তিনদিনের একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। মহানগরী খালিশপুর থানার কাশিপুর এলাকায় মাদানী নিসাব নামের একটি মাদ্রাসার বৈঠক থেকে তাদের আটক করা হয়।