ডেস্ক রিপোর্ট
৭ মার্চ ২০২২, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: দক্ষিণ এশিয়ায় বামপন্থি আন্দোলন বেগবান করতে বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট পার্টিগুলোর পরস্পর অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সংহতি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বাসদের কংগ্রেস উপলক্ষে আগত শ্রীলংকার জনতা ভিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি) পার্টির নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশের ক্রিয়াশীল বামপন্থী দলসমুহের নেতৃবৃন্দ।
৬ মার্চ বেলা ১১টায় সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা হলে শ্রীলংকার জনতা ভিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি) পার্টির নেতৃবৃন্দের সাথে বাংলাদেশের ক্রিয়াশীল বামপন্থি দলসমূহের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান এবং সঞ্চালনা করেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ।
জেভিপি’র নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড তিলভিন সিলভা ও পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড বিমল রত্নায়েক।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জমান রতন, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, সিপিবি’র সভাপতি কমরেড শাহ আলম, সাজ্জাদ জহির চন্দন, আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, অনিরুদ্ধ দাস অঞ্জন, রাগিব আহসান মুন্না, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী ও জহিরুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ও শহীদুল ইসলাম সবুজ, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভুঁইয়া, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)’র নেতা বিধান চন্দ্র দাস প্রমুখ।
মতবিনিময় সভা’র শুরুতেই জেভিপি’র পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড বিমল রত্নায়েক পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কার ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাস ও সেখানকার জনগণের সংগ্রামের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা সবার সামনে তুলে ধরে বলেন, “পর্তুগিজ, ডাচ এবং বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের পর শ্রীলংকা প্রথম আংশিক স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৮ সালে, এবং পরবর্তীতে পূর্নাঙ্গ স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৭২ সালে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি একটি রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের ধারায় চলে এবং ১৯৭২ এর পর থেকে সেটা নব্য উদারনৈতিক ধারায় পথ চলা শুরু করে। এরপর জেভিপি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড তিলভিন সিলভা শ্রীলঙ্কার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বামপন্থী আন্দোলনের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “শ্রীলংকায় এখনও বুর্জোয়া দ্বি-দলীয় শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। কমিউনিস্ট আন্দোলনের নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে ১৯৬৫ সালে জেভিপি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন শাসনামলে একাধিক বার জেভিপিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদেরকে সশস্ত্র সংগ্রামেও নামতে হয়েছে। এসময় আমাদের দলের প্রায় ৬০,০০০ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয় এবং গ্রেফতার হয় অসংখ্য। এই নির্যাতনের মধ্যেও জেভিপি জনগণের আন্দোলন ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে শ্রীলংকার রাজাপাকশে সরকার একটি দুর্নীতিগ্রস্থ স্বৈরতান্ত্রিক পারিবারিক শাসন কায়েম করেছে। এই সরকার একই সাথে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে খুশি রাখতে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিচ্ছে। ঋণের চাপে শ্রীলংকা এমন জর্জরিত অবস্থায় রয়েছে যে জ্বালানী, ওষুধসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যও আমদানী করতে পারছে না”।
সভাপতির বক্তব্যে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, আজকের এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আমরা দক্ষিণ এশিয়ার দেশে দেশে বামপন্থী আন্দোলনসমূহের মধ্যে একটি যোগাযোগ স্থাপন করতে চাই। ভবিষ্যতেও নিয়মিত এই ধরণের সভা আমরা আয়োজন করার চেষ্টা করবো। এজন্য আমরা অন্যান্য বামপন্থী দলসমূহের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ কষ্ট করে শ্রীলংকার কমরেডদেরকে আমাদের কংগ্রেস উপলক্ষে আসার ও তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আমাদেরকে সমৃদ্ধ করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আমাদের দেশের বামপন্থি বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ তাদের গুরুত্বপূর্ণ সময় দিয়ে ও মতামত রেখে আজকের সভাকে সফল করার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সাথে দক্ষিণ এশিয়ায় কমিউনিস্ট আন্দোলন বেগবান করতে বিভিন্ন দেশের বামপন্থি দলসমূহের মধ্যে আরও বেশি বেশি যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ঐক্য ও সংহতি বাড়ানোর উপর জোর দেন এবং সকলকে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।