ডেস্ক রিপোর্ট
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: অমর একুশে গ্রন্থমেলার আজ প্রথম শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)। ছুটির দিন দর্শনার্থী, পাঠক ও ক্রেতাদের ঢল নেমেছিল মেলায়। মেলার চারটি প্রবেশপথ, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর এলাকায় যেন তীল ধারণের ঠাঁই নেই। এ ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তা কর্মীদের। স্টলে বই কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
আজকের মেলা শুরু হয় সকাল ১১টায়। গেট খোলার পরপরই অভিভাবকদের হাত ধরে দলবেঁধে ভেতরে ঢোকে খুকুমনিদের দল। দুপুর পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ ছিল শিশুদের আনাগোনায় মুখর। তাদের ছুটোছুটিতে বোঝা-ই যায়নি এবার মেলায় ‘শিশু প্রহর’ নেই। বিকাল থেকে মেলায় বাড়তে থাকে বিভিন্ন বয়সের পাঠক-দর্শনার্থী। মেলার এই পরিবেশে লেখক, পাঠক, প্রকাশকদের মাঝে বিরাজ করছে স্বস্তির আমেজ।
কথা সাহিত্যিক ওয়াসিম হক বলেন, ‘এবার মেলার প্রথম দিন থেকেই আমি দেখছি প্রচুর ভিড়। যদিও কেউ কেউ অভিযোগ করছেন ক্রেতা কম, কিন্তু আজ সকাল থেকেই দেখতে পাচ্ছি প্রচুর ক্রেতা। শিশুরাও প্রচুর বই কিনছে। বাবা মায়ের হাত ধরে গুঁটিগুঁটি পায়ে হাঁটছে, তাদের রয়েছে রঙ-বেরঙের বই। মেলার সার্বিক বিষয়ে আমি সন্তুষ্ট।’
লেখক ফরহাদ আহমেদ বলেন, ‘এবার মেলায় পাঠকদের কাছ থেকে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। ক্রেতা বেড়েছে। খুব ভালো লাগছে। দিনে দিনে দর্শনার্থী আরও বাড়বে বলে আমাদের প্রত্যাশা। তবে আগত দর্শনার্থী ও পাঠকদের স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে আরেকটু সচেতন হওয়া উচিত।’
চয়ন প্রকাশের স্বত্বাধিকারী লিলি হক বলেন, ‘আমি প্রত্যাশার ফেরিওয়ালা। স্বপ্ন ফেরি করে বেড়ায়। বিক্রি করে বেড়েছে। পাঠকের সংখ্যা বেড়েছে। এটা আশার কথা, বাঁচার কথা। ভাষা আন্দোলনের সত্তর বছরে এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে আমি নির্দিধায় বলতে পারি, পাঠক বাড়বে, বিক্রি আরও বাড়বে, লেখক বাড়বে।’
ঢাকা কমিক্সের বিক্রয়কর্মী সাজ্জাদ হোসেন ইমন বলেন, ‘মেলার আজ প্রথম শুক্রবার বেশ ভালো পাঠক আসছেন, বই কিনছেন। প্রথম দিন থেকেই বিক্রি ভালো হচ্ছে। আজ বিক্রি অনেকটা বেড়েছে। একটু ব্যস্ত সময় পার করছি। আশা করছি, আগামী শুক্রবার আরও বাড়বে।’
সিনেমার স্ক্রিপ্ট রাইটার জিয়াউর রহমান বিদ্যুৎ মেলায় এসেছেন সহধর্মিণী ও মেয়ে আসফিয়া জাহান অতসীকে সঙ্গে নিয়ে। তিনি বলেন, ‘মেলা নিয়ে আমার ব্যক্তিগত ইমোশন আছে। আমি ছোট বেলা থেকে মেলায় নিয়মিত আসি। কিন্তু গত দু’বছর মেলায় আসেনি। এবার মেলায় এসে ভালো লাগছে। মেলা এত সুন্দর কেন? লোকসমাগম, স্টল বিন্যাস ও মেলার সার্বিক ব্যাবস্থাপনা মিলিয়ে বেশ ভালোই লাগছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এসএম ওমর বলেন, ‘মেলায় আজ উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এটা খুবই আশার দিক। তরুণ প্রজন্ম ফেসবুক, ভিডিও গেমসে আসক্তি থেকে বেরিয়ে এসে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। মেলার প্রস্তুতিতে আংশিক ঘাটতি রয়েছে। তবে যে দোদুল্যমান অবস্থায় মেলা শুরু হয়েছে, আমি মনে করি অনেক ভালো হয়েছে। ’
মেলায় আগত দর্শনার্থী, পাঠক ও বিক্রয়কর্মীদের মধ্যে গত তিন দিনের তুলনায় স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেলো আজ। তবে কারও কারও মুখে মাস্ক ছিল না।
এই দিন মেলার দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা অনুষ্ঠান ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়। ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে নানাভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। পরিবর্তন ও প্রগতির হাত ধরে এই চেতনা সামনের দিকে অগ্রসর হবে এই আশাবাদ আমরা রাখতেই পারি।’
আলোচনা পর্বে বিভিন্ন কবি,সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা বক্তক্য রাখেন।
এ দিন মেলায় নতুন বই এসেছে ১৭৭টি।