ডেস্ক রিপোর্ট
২২ জানুয়ারি ২০২২, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সারদেশে অসন্তোষ, করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাক্ষেত্রে ভয়াবহ সংকট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চরম অগণতান্ত্রিক পরিবেশ যার ফলাফলে দেশজুড়েই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আন্দোলন দানা বাঁধছে বলে মন্তব্য করে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রীয় নিপিড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী প্রতিরোধ কার্যত শাসকদের ভীত নাড়িয়ে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করেছে। আন্দোলন দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে৷ ঠিক সেই সময়ে সরকার করোনার অজুহাত দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষনা দিয়েছে। আন্দোলন দমনে এই চক্রান্তমূলক সিদ্ধান্ত বিপর্যস্ত করবে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিক্ষা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেলো৷
আজ শনিবার, ২২ জানুয়ারি গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস এক যুক্ত বিবৃতিতে এই কথা বলেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ প্রায় ২ বছর বন্ধ থাকার পর ক্রমাগত ছাত্র আন্দোলনের ফলস্বরূপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই একের পর এক সংকট যখন প্রকটভাবে সামনে আসছে ঠিক তখনই কোন প্রকার পূর্বপরিকল্পনা ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষনা আসলো। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পরোয়া না করেই হুট করে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর এক ঘোষনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবার বন্ধ হয়ে গেলো। এমন একটা সময় এই ঘোষনা আসলো যখন শাবিপ্রবিতে ছাত্র আন্দোলন বিদ্যমান। শিক্ষার্থীরা তাদের একদফা দাবীতে অনড় থেকে অনশন চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ঐতিহাসিক কারনেই এদেশে যেকোনো সংকটে ছাত্ররা সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। করোনা মহামারিতে সরকারের দেশ পরিচালনায় যে ফাঁপাবুলি শোনা যায় তার বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলন যাতে কোনভাবেই দানা বাঁধতে না পারে সেই উদ্বিগ্নতা থেকেই সরকার সবার আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চায় । আন্তর্জাতিক বানিজ্যমেলাসহ সকল জনসমাগমের স্থান চালু রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পড়বে সরকারের এমন আশংকা অত্যন্ত হাস্যকর।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা এর আগেও দেখেছি দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থী ও ৫০ লাখ শিক্ষক নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। বরং সবকিছু খুলে দিলেও করোনার দোহাই দিয়ে শুধুমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে দিনের পর দিন। আন্দোলন করে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণা আদায় করতে হয়েছে।দীর্ঘদিন পর খুলে দিলেও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য স্বাভাবিক/ উন্নত করার কোন উদ্যোগ শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা আমরা দেখিনি।
স্বাভাবিক সময়ে প্রতিবছর প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই প্রায় ১৭ শতাংশ ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার আগে ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। গত ৫ মাসে ১৫১ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা করেছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় হতাশা, ভবিষ্যৎ জীবনের অনিশ্চয়তা এসব আত্মহত্যার মূল কারণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও করোনা কালে অসংখ্য ছাত্রী বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে।
এমতাবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় বন্ধ থাকলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার যেই হাড্ডিসার অবস্থাটুকু ছিল সেটুকুও নিঃশেষ হয়ে মৃত অবস্থা প্রাপ্ত হবে।
বিবৃতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অন্য সকল প্রতিষ্ঠানের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু রাখার দাবি জানানো হয়৷ অন্যথায় শিক্ষার্থীরা আবারও শিক্ষাজীবন রক্ষায় রাস্তায় নামবে। কোন চক্রান্তমূলক সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমাতে পারবে না৷