ডেস্ক রিপোর্ট

১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

প্রথম দিনেই রাজধানীতে শিথিল বিধিনিষেধ

আপডেট টাইম : জানুয়ারি ১৪, ২০২২ ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: রেস্তোরাঁয় লেখা আছে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’, ‘টিকার সনদ ছাড়া প্রবেশ করবেন না’। শপিং মল ও রাজাধানীর চলাচলকারী বাসগুলোর গেইটে লেখা আছে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’। তবে বাস্তব চিত্র উল্টো। রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খেলেও কাউকে টিকার সনদ দেখাতে হচ্ছে না। যারা হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার জন্য ঢুকছেন তাদেরর অনেকের মুখে মাস্ক নেই। এমনকি হোটেল কর্মীদেরও নেই মাস্ক।

রাজধানীর বড় বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অনেকেই বিধিনিষেধের কথা জানলেও অলিগলিতে প্রতিষ্ঠিত হোটেল রেস্তোরাঁ মালিক-কর্তৃপক্ষ টিকা সনদ ছাড়া রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খেতে দেয়া যাবে না-এমন নির্দেশনাও পায়নি।

পাশাপাশি শপিং মলগুলোতেও নেই স্বাস্থ্যবিধি। বাসগুলোতও দেখা গেছে সিটের অতিরিক্ত দাঁড়ানো যাত্রী। অর্ধেকের বেশি যাত্রীর নেই মাস্ক। নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই।

কাচাঁবাজারেও একই অবস্থা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

এ দিকে দেশে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তৃতীয় ঢেউ চূড়ার দিকে যাচ্ছে।

সোমবার করোনার বিস্তার রোধে নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকারের জনপ্রসাশন মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে বিধিনিষেধ শিথিল দেখা গেছে। তবে রাজধানীর কিছু এলাকায় বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জরিমানা করেছে।

সরেজমিনে রাজধানীর মগবাজার ক্যাফে ডি তাজ হোটেল ও রেস্টুরেন্টে গিয়ে দেখা যায়, লেখা আছে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’, ‘টিকার সনদ ছাড়া প্রবেশ করিবেন না’। কিন্তু খাবার খেতে আসা অধিকাংশ ভোক্তার টিকা সনদ নেই। রেস্টুরেন্ট থেকেও জানতে চাওয়া হচ্ছে না-সংশ্লিষ্ট ভোক্তার টিকার সনদ আছে কি না। এই হোটেলের অধিকাংশ কর্মীর নেই মাস্ক। একই এলাকার উজ্জল হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ব্যবস্থাপক উজ্জল হোসেন বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি। আমরা টিকার সনদ দেখছি না। আমাদের এখানে যারা খেতে আসছে তাদের সবাইকে খাবার দিচ্ছি। সরকারের উচিত আগে সবার টিকা নিশ্চিত করা। তারপর এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা। তা না হলে শুধু শুধুই ভোগান্তি বাড়বে।

কারওয়ান বাজারের তিন তারকা হোটেল ও রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমাদের জায়গা থেকে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের অধিকাংশ কর্মী টিকা পায়নি। তবু সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটা মানার চেষ্টা করছি।

বাস মলিক ও চালকরা বলছেন, এ নির্দেশনা তারা আগামী ১৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করবে।

রাজধানীর রামপুরা, মগবাজার, কাকরাইল, পল্টনসহ অন্যান্য এলাকায় বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাসে স্বাস্থ্যবিধি দেখা যায়নি। যাত্রীদের চাপ বেশি ছিল।

গুলিস্তান থেকে গাজিপুরগামী প্রভাতী বনশ্যী পরিবহনের সহকারী মো. হৃদয় মিয়া জানান, অর্ধেক যাত্রী নেয়ার কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলেই আমরা সেই অনুযায়ী চলব।

চিটাগাং রোডের মনজিল পরিবহনের আবদুল ওহাব জানান, যাত্রীরা যেভাবে বাসে ওঠে, তাদের আটকানো যায় না। বাসের প্রবেশের দরজা বন্ধ রাখলেও কোনো কোনো সময় সেটা ঠেলে ওঠার চেষ্টা করে। তখন আমরা অসহায় হয়ে তাদের তুলতে হয়।

তবে এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলেন, এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিধিনিষেধ মানলে করোনা অল্প অল্প করে বাড়বে, নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে ও গণপরিবহনও একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে না। একইভাবে শপিং মল, দোকান মালিক সমিতি ও রেস্টুরেন্ট মালিকদেরও বোঝাতে হবে। কারণ সংক্রমণ বেশি হলে এসব প্রতিষ্ঠান আবার বন্ধ হয়ে যাবে। সরকারকে এদের বোঝাতে হবে।

চ্যালেঞ্জের ব্যাপারে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব বিধিনিষেধ ঠিকমতো মানা গেলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রভাব পড়বে। এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আছে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবার স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ছাড়া এসব বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন মেকাবেলায় সরকারের দেওয়া ১১ বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে থেকে মাঠে আছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রাজধানীর শাহবাগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. সঞ্জীব দাস।

তিনি বলেন, পৌনে ২ ঘণ্টার অভিযানে ৫০-৬০ জনের প্রত্যেকের মাস্ক পরায় ত্রুটি দেখা যায়। কেউ থুতনিতে মাস্ক পরেছেন, কেউ ম্যাজিস্ট্রেট দেখে পকেট থেকে মাস্ক বের করেছেন। এ ছাড়া অধিকাংশের কাছেই ছিল না মাস্ক। তারা নানা অজুহাত দিয়েছেন। অভিযানে ১১ জনের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তীতে মাস্ক পরবে এ মর্মে মুচলেকাও নেয়া হয়েছে। অপরাধ বিবেচনায় অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের মূল উদ্দেশ সবাইকে সতর্ক করা।

গত সোমবার ১১ দফা বিধিনিষেধের ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে এ বিধিনিষেধ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।

শেয়ার করুন