ডেস্ক রিপোর্ট

২৫ ডিসেম্বর ২০২১, ৯:৪১ অপরাহ্ণ

লঞ্চে অগ্নিকান্ডে দোষীদের শাস্তি ও হতাহতদের ক্ষতিপূরণের দাবি

আপডেট টাইম : ডিসেম্বর ২৫, ২০২১ ৯:৪১ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের যথাযথ শাস্তি এবং হতাহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। আজ ২৫ শে ডিসেম্বর গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সুজয় শুভ ও আলিসা মুনতাজ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিছকই কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং এটি একটি হত্যাকান্ড। এই হত্যাকান্ডের জন্য লঞ্চের কতৃপক্ষ যেমনভাবে দায়ি, তেমনভাবেই সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ-ও সমানভাবে দায়ি।

গণমাধ্যমের তথ্যমতে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামক লঞ্চের ইঞ্জিনরুমের পাশের ক্যান্টিনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন ধরে যায় ১৩ ব্যারেল ডিজেলে। যা ছড়িয়ে পড়ে পুরো জাহাজে। অসংখ্য মানুষ তাতে হতাহত হয়। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দোষীদের যথাযথ শাস্তি এবং হতাহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

এই দুর্ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ দুর্ঘটনা নৌপরিবহন খাতে রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনারই একটি অংশ মাত্র। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ-এর সঠিক নজরদারি থাকলে এধরণের ভয়াবহ ঘটনা ঘটার কথা নয়। দক্ষিণাঞ্চলের বিলাসবহুল প্রায় সকল লঞ্চেই অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, ফায়ার বাকেট, বালুবাহী বালতি, ফায়ার সেফটি অ্যালার্ম, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা নেই। সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রচন্ড সংকট রয়েছে প্রশিক্ষণেরও। নৌপরিবহন কর্মীদের জন্য প্যাসেঞ্জার শিপ এনডোর্সমেন্ট কোর্স, সেফটি ড্রিল, মাস্টার ড্রিল ইত্যাদি নানা প্রশিক্ষণ রয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আসলে সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ-এর। লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মালিক, নাবিক, মাস্টারদের যেমন দোষ রয়েছে, এর থেকেও সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ এই ঘটনার জন্য অনেক বেশি পরিমানে দোষী। লঞ্চের মালিক, নাবিক, মাস্টারদের বিচারের পাশাপাশি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ-কে বিচারের মুখোমুখি করা সময়ের দাবি।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই দুর্ঘটনা নৌপরিবহন খাতে রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার কারণেই ঘটেছে। কাজেই এই হত্যাকান্ডের দায় সরকার এড়াতে পারে না। সড়ক অথবা নৌপথ সবখানেই জনগণের জান-মালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই অব্যবস্থাপনা এবং মুনাফালোভীদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানানো হয়।

শেয়ার করুন