ডেস্ক রিপোর্ট
২২ নভেম্বর ২০২১, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক :: ঘরের মাঠে পাকিস্তান পুরুষ ক্রিকেট দলের সঙ্গে খেলছে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। যেখানে পরপর দুই ম্যাচেই মিলেছে হতাশা। তবে হাজার মাইল দূরে পাকিস্তান নারী দলের বিপক্ষে হতাশ করেনি বাংলাদেশ নারী দল।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পর পাকিস্তানকে তিন উইকেটে হারিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। আগে ব্যাট করা পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ২০১ রান। জবাবে ৪৯.৪ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।
বল হাতে এক উইকেট ছাড়াও ব্যাট হাতে ৫০ রানের মহাগুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিয়েছেন তারকা অলরাউন্ডার রোমানা আহমেদ। গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন নাহিদা আক্তার, রিতু মনি, ফারজানা হক পিংকি এবং সালমা খাতুনরা।
ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই সবার মধ্যে আনন্দ-উন্মাদনা। পাকিস্তানকে হারানোয় অনুভূতি দ্বিগুণ বলে মন্তব্য করেছেন
অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা রোমানা। বিসিবির পাঠানো ভিডিওবার্তায় তিনি ছাড়াও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সালমা-জ্যোতিরাও।
রোমানা বলেছেন, ‘আসলে সবার অনুভূতি অসাধারণ। আমরা অনেকদিন থেকে এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এটা আমাদের বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচ। আবার খেলছি পাকিস্তানের সঙ্গে কাজেই জেতার অনুভূতি আমাদের আরও দ্বিগুণ। সত্যি কথা বলতে আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সব সময় অন্যরকম খেলার চেষ্টা করি। আর ওদের সঙ্গে শেষ তিনটা ম্যাচের দুটিতেই আমাদের জয় ছিল। কাজেই এই জয় আমাদের প্রাপ্য।’
আরেক অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ও সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন বল হাতে ১০ ওভারে দুই মেইডেনসহ মাত্র ৩২ রান খরচায় নিয়েছেন এক উইকেট। পরে নয় নম্বরে নেমে রোমানার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। যেখানে তার অবদান ১৩ বলে ১৮ রান।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে সালমা বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস ছিল, আমরা জিতবো। আমার পরিকল্পনা ছিল যে, যখনই ব্যাটিং আসুক না কেন, আমার দলকে কিছু দিতে চাই। সেটা দিতে পেরে অনেক আনন্দিত আমি। রোমানার সঙ্গে আমার জুটিটা অনেক ভালো হয়েছে। আমি যখন গিয়েছিলাম, স্ট্রাইক রোটেট করে খেলেছি এবং রোমানাকে স্ট্রাইক দেওয়ার চেষ্টা করেছি কারণ ও সেট ছিল। আমিও বাউন্ডারি মারার চেষ্টা করেছি কারণ রানটা অনেক বেশি ছিল, ১৮ বলে ৪০ রানের মতো লাগতো। সেটা কাভার করতে আমাদের দুজনকেই হিট করে খেলতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জিততে পেরেছি, খুবই ভালো লাগছে।’
অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়েছেন রিতু মনিও। তিনি বল হাতে ৩৬ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে করেছেন ৩৭ বলে ৩৩ রান। তার প্রতিক্রিয়া, ‘আমি যখন (ব্যাটিংয়ে) গিয়েছিলাম, তখন অনেক কম বলে বেশি রান দরকার ছিল। আমি চেষ্টা করেছি গ্যাপ শট খেলার জন্য এবং পেরেছি। (রোমানা) আহমেদ আমাকে সবসময় সাপোর্ট দিয়েছে। আমার একটাই প্ল্যান ছিল, আমি যেন ডট বল না খেলি।’
পাকিস্তানকে ২০১ রানে আটকে রাখার অন্যতম কারিগর ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার। যিনি নিজের ১০ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে নিয়েছেন দুইটি উইকেট। নাহিদা বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্! আমরা ম্যাচটি জিততে পেরেছি। পাঁচ উইকেট পড়ার পর যখন ওরা সেট হয়ে গিয়েছিল, তখন আমার তিন ওভার বাকি। আমার টার্গেট ছিল কীভাবে ডট করা যায়। কারণ ডট করলে ওরা পাজলড হবে এবং অটোমেটিক উইকেট দেবে। আমার কাজটা ছিল এটাই। আমার অধিনায়ক, সিনিয়র প্লেয়াররা বল দিয়ে এ দায়িত্বই দিয়েছেন যে, তুমি এই মোমেন্টটাকে আটকায় রাখো। যেভাবে তুমি পারো, আগে করছো। শুধু বিশ্বাস রাখো। তারা এভাবে বলেছে, আমি সেটাকে কাজে লাগিয়েছি।’
২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় উইকেটে ৭০ রানের জুটি গড়েছিলেন শারমিন আক্তার সুপ্তা ও ফারজানা হক পিংকি। তিন নম্বরে নামার ফারজানার ব্যাট থেকে এসেছে ৪৫ রানের ইনিংস। দলকে একশ রানের কাছাকাছি পৌঁছে দিয়ে আউট হন তিনি।
ফারজানা বলেছেন, ‘শুরুতে পেস বোলিং খুব ভালো হচ্ছিল। আমার চেষ্টা ছিল সোজা সোজা ব্যাটে খেলার। আমার পার্টনারকেও (সুপ্তা) এটা বলেছি যে তুই সোজা সোজা খেল। আমার এটাই চিন্তা ছিল যে, শুরুতে যদি কিছু ডটও খেলি, আমাদের সেই সামর্থ্য আছে যে আমরা চেজ করতে পারবো। আমার মনে হচ্ছিল যে, ওদের পেস বোলাররা খুব একটা ছন্দে বোলিং করছিল না, এটাই আমাদের সুযোগ নিতে হবে। তো আমি সুপ্তার সঙ্গে সঙ্গে কথা বলতে বলতে খেলেছি। ও সুন্দরভাবে ইউটিলাইজ করছে। আর আমি চেয়েছিলাম স্পিন বলে সিঙ্গেল-ডাবল নিয়ে রানের চাকা সচল রাখা। তবে আমি যদি আরেকটু ভালো খেলতে পারতাম, ভালো হইতো। এখন বুঝতে পেরেছি, ইনশাআল্লাহ্ নেক্সট ম্যাচ আরও ভালো খেলা হবে।’
অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি কথা বলেছেন পুরো ম্যাচের চালচিত্র সম্পর্কে। জয় দিয়ে বাছাইপর্ব শুরু করায় বাড়তি তৃপ্তি তার কণ্ঠে। সামনের ম্যাচগুলোয় এটি অনেক সাহায্য করবে বলে বিশ্বাস এ উইকেটরক্ষক ব্যাটারের।
জ্যোতি বলেছেন, ‘একটা টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। এটা জয়ের মাধ্যমে শুরু করতে পেরেছি, যা আমাদের অনেক মোমেন্টাম দিয়েছে টুর্নামেন্টের বাকি পথের জন্য।’
‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ কিন্তু সবসময় উত্তেজনাপূর্ণ থাকে। আমরাও সেভাবেই প্রস্তুত ছিলাম যে, মাঠে আমাদের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে। আমরা কিন্তু একটা সময় দেখেছি, শুরুতে ৫টা উইকেট নেওয়ার পর ওরা একটা পার্টনারশিপ করে, তখনও আমরা কেউ প্যানিকড হয়ে পড়িনি। খুবই ঠাণ্ডা মাথায় ট্যাকল করেছি।’
‘আমি বলবো যে এখানে বোলারদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তারা অসম্ভবভাবে সাহায্য করেছে। হ্যাঁ শেষ দশ ওভারে কিছু রান হয়েছে। দেখা যাচ্ছিল যে তারাও (পাকিস্তান) তখন অনেক চেষ্টা করছিল এবং বাতাসের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শট খেলছিল।’
‘তবে এসব উইকেটে ২০০ রান করা কিংবা সেটা তাড়া করা স্বাভাবিক বিষয়। যখন আমরা ব্যাটিংয়ে সেরকমই কিন্তু ছিল পরিকল্পনা। আমাদের যে প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়া অনুসারেই কাজ করেছি। একটা সময় দেখা গিয়েছে যে মাঝে হয়তো আমরা কলাপ্স করে গিয়েছি। কিছু ডট বলও হয়েছে তখন। রিতু মনি এবং রুমানা আহমেদের একটা সুন্দর পার্টনারশিপ হয়েছিল।’
‘এরপরও টানা দুই উইকেট পড়ার পর রুমানা তখনও উইকেটে ছিল। সাথে সালমা আপু গিয়ে অসাধারণ একটা ইনিংস খেলে দিয়ে এসেছেন। আমি বলবো যে, এটা আমাদের দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে এবং আমরা যে সামনে আরও ম্যাচগুলো খেলবো সেগুলোতে আরও বেশি সাহায্য করবে।’