ডেস্ক রিপোর্ট
১৭ নভেম্বর ২০২১, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এখানে আমার কিছু করার নেই, আমি যেটা করার করেছি। বাকিটা আইনগত ব্যাপার।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
গ্লাসগোতে জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে দুই সপ্তাহের সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে গণভবন থেকে এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপি চেয়ারপারসনের বিদেশ যাওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকের করা প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে চান কীভাবে বলেন তো, খালেদা জিয়াকে যে বাসায় থাকতে দিছি, চিকিৎসা করতে দিছি এটাই কি বেশি না?’
তিনি বলেন, ‘আপনাকে যদি কেউ হত্যা করার চেষ্টা করত আপনি কি তাকে গলায় ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করতেন? আপনার পরিবারকে যদি কেউ হত্যা করত, আর সেই হত্যাকারীকে বিচার না করে পুরস্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিত, তার জন্য আপনি কী করতেন?’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি থাকতে হত্যাকারীকে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ‘৯৬ সালে ইলেকশনে ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে বসানো হলো, যেখানে আমি বিরোধী দলের নেতা ছিলাম, সেখানে বসানো হলো কর্নেল রশিদকে। কে করেছিল, খালেদা জিয়া’।
তিনি বলেন, ‘খায়রুজ্জামান আসামি, তার মামলার রায় হবে, চাকরি নাই, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে সে আসামিকে চাকরি দিল ফরেন মিনিস্ট্রিতে, অ্যাম্বাসেডর করে পাঠাল’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবার গ্রেনেড হামলার পর বলল কী, আমি নিজেই ভ্যানিটি ব্যাগে গ্রেনেড নিয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। কোটালিপাড়ায় বোমা পোতার আগে তার বক্তব্য কী ছিল, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা কোনো দিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারবে না। সে ভেবেছিল মরেই তো যাব, রাখে আল্লাহ মারে কে আর মারে আল্লাহ রাখে কে’?
‘এখন আমার বেলায় সেটা হচ্ছে যে, রাখে আল্লাহ মারে কে?’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘সেখানে তারপরও খালেদা জিয়ার জন্য এত দয়া দেখাতে আমাকে বলেন, এই প্রশ্ন করলে আমার মনে হয় আপনাদের একটু লজ্জা হওয়া উচিত। যারা আমার বাপ-মা-ভাই আমার ছোট রাসেলকে পর্যন্ত হত্যা করেছে… তারপরও আমরা অমানুষ না, অমানুষ না বলেই তাকে অন্তত আমার নির্বাহী ক্ষমতা যেটুকু আছে, আমি সেটুকু দিয়ে তার বাসায় থাকার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বাকিটা আইনগত ব্যাপার। তারপর দুর্নীতি করে করে এ দেশটাকে একেবারে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে’।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার পর এতজন আহত আমরা ২২ জন মানুষ মারা গেছে, একদিন পার্লামেন্টে সেটার ওপর আলোচনা করতে দেয়নি আমরা বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতে পারিনি। এত বড় অমানবিক যে তাকেও আমি মানবতা দেখিয়েছি আমার হাতে যেটুকু পাওয়ার সেটুকু আমি দেখিয়েছি, আর কত চান? এখন সে অসুস্থ… ওই যে আমি বললাম না, রাখে আল্লাহ মারে কে, মারে আল্লাহ রাখে কে’।