ডেস্ক রিপোর্ট
২৮ অক্টোবর ২০২১, ১০:০১ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক :: দুই সন্তানের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মায়ের মামলার অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আদালত। ওই বৃদ্ধা মা গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় আদালতে হাজির হয়ে মামলা দায়ের করতে না পারায় বিচারক তার বাসায় গিয়ে জবানবন্দি শুনে অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চসহকারী মো. চার্চিল এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলার আবেদন করলে বাদীকে ২০০ ধারায় জবানবন্দি দিতে হয়। কিন্তু বাদী আদালতে আসতে না পারা বিজ্ঞ আদালত তার বাসায় ছুটে যান।
বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মাসুম বিল্লাহ অসুস্থ বাদীর বাসায় যান বলে তিনি জানান।
চার্চিল মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে বলেন, মামলার বাদী জাহানুর বেগম (৭৫)। তার স্বামী সিরাজুল ইসলাম ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত জাহানুর ব্রেইন স্ট্রোক, মেরুদণ্ড অচল এবং পিঠে ক্ষত ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত। বর্তমানে বরিশাল নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বৈদ্যপাড়া জোড়াপুকুর এলাকায় ছোট মেয়ে সাহিদার সঙ্গে থাকছেন। তার আরও কয়েকজন ছেলে-মেয়ে আছে। এর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ও মেয়ে সাবিনা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, তিনি খুলনায় স্বামীর বাড়িতে থাকতেন। তার চিকিৎসার খরচের জন্য খুলনার সম্পত্তি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুসারে ক্রেতা খুলনার জমি ক্রয়ের জন্য বরিশালে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) তার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ও মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বরিশালে এসে সম্পত্তি বিক্রি করতে দেবেন না বলে জানায়। তখন জাহানুর বেগম তার সন্তানদের কাছে ভরণপোষণ দাবি করলে তা দিতে অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের ১ নভেম্বরের মধ্যে স্ব শরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।
বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, জাহানুর বেগম পিতা-মাতার ভরণ পোষণ আইন ২০১৩ এর ৫ ধারা মোতাবেক আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলার আবেদন করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ও নালিশি দরখাস্তের বাহকের মাধ্যমে আদালতের বিচারক জানতে পারেন বাদী শয্যাশায়ী। বিচারক এজলাসের কার্যক্রম শেষে আমাকে সঙ্গে নিয়ে নালিশি দরখাস্তের সত্যতা যাচাই করতে বাদীর বাসায় যান। বাদীর আইনজীবী ও আমার উপস্থিতিতে জবানবন্দি রেকর্ড করেন আদালত।