ডেস্ক রিপোর্ট
২৫ অক্টোবর ২০২১, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: তেহরিকে লাব্বাইক পার্টির-টিএলপি সঙ্গে সমঝোতার পর ৩৫০ জন কর্মীকে মুক্তি দিয়েছে ইমরান খান সরকার। এরই অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত লাহোর মার্চ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে টিএলপি।
টিএলপি’র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার থেকে চলছিল সংঘর্ষ। অন্তত দুইজন পুলিশ কর্মী মারা গেছেন সংঘর্ষে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। টিএলপি কর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে রেখেছিল।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকার তাদের সঙ্গে সমঝোতায় এসেছে। সরকার জানিয়েছে, টিএলপি নেতার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে। ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা হবে।
পাকিস্তান গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ টিএলপি নেতা সাদ রিজভির বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ তুলের প্রতিশ্রতি দিয়েছেন। তাছাড়া ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে পাকিস্তান থেকে বের করে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনারও প্রতিশ্রুতি দেন।
মহানবীর (সা.) কার্টুনকাণ্ড নিয়ে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে পকিস্তান থেকে বহিষ্কার চায় টিএলপি। পাকিস্তান সরকারের এই প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে টিএলপি জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবিত লহোর মার্চ বন্ধ রাখছে। তবে সরকার যতক্ষণ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করে, ততক্ষণ তারা লাহোরের কাছের একটি শহরে বিক্ষোভ দেখাবে।
গত শুক্রবার থেকেই লাহোর অশান্ত হয়ে ওঠে। টিএলপি সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। অন্তত দুই জন পুলিশ কর্মী মারা গেছেন। প্রচুর গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। অন্তত ১২ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন।
টিএলপি জানিয়েছে, তাদের অন্তত সাতজন কর্মী পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন। আহত হয়েছেন কয়েকশ’। টিএলপি-র দাবি, তাদের হাজার হাজার কর্মীর বিক্ষোভের ফলে সরকার হতচকিত হয়ে পড়েছে।
টিএলপি হলো সাদ রিজভির কট্টরপন্থি ধর্মীয় দল। তারা গত এপ্রিলে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায়। ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তখন টিএলপি-কে নিষিদ্ধ করা হয়। আর রিজভির বিরুদ্ধে মানুষকে উসকানি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। তাকে আটক করা হয়।
এদিকে, পাকিস্তান সরকার দেশটির উগ্র রক্ষণশীল তেহরিকে লাব্বাইক দলের ৩৫০ কর্মীকে মুক্তি দিয়েছে। রোববার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদ আহমদ এক টুইট বার্তায় এই তথ্য জানান।
সাদ রিজভি ফ্রান্সে ইসলামের নবী মুহাম্মদ ( সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র আঁকার জন্য পাকিস্তান থেকে ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন।