ডেস্ক রিপোর্ট

৩ অক্টোবর ২০২১, ৩:২৪ অপরাহ্ণ

টিসিবি’র বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধির দাবিতে বাসদ(মার্কসবাদী)’র স্মারকলিপি

আপডেট টাইম : অক্টোবর ৩, ২০২১ ৩:২৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: ঊর্ধ্বমুখী বাজার দরে জনগণের সংকট বিবেচনায় টিসিবি’র বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি, টিসিবি ট্রাকে পণ্য সরবরাহ বাড়ানোসহ ৬ দফা দাবিতে টিসিবি ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও কতৃর্পক্ষকে স্মারকলিপি দিয়েছে বাসদ (মার্কসবাদী)’।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে টিসিবি ভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে টিসিবি কতৃর্পক্ষকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্টি ঢাকা নগর ইনচার্জ নাঈমা খালেদ মনিকা। বক্তব্য রাখেন, সীমা দত্ত, সালমান সিদ্দিকী, তৌফিকা লিজা ও অরুপ দাস শ্যাম। সভা পরিচালনা করেন মাসুদ রানা।

বক্তারা বলেন, “পৃথিবী এখনও করোনা অতিমারি মোকাবেলা করছে। এ সময় অপ্রাতিষ্ঠানিক সেক্টরে ৫ কোটি মানুষ কর্মহীন হয়েছে। পরিবার প্রতি আয় কমেছে ২০%। এরমধ্যে মরার উপর খাঁড়ার ঘার মতো চাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেড়েছে কয়েকগুণ। ঢাকায় পানির বিল বেড়েছে এক বছরে দুইবার। চাল, ভোজ্য তেল, ডাল, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। মোটামুটি অর্থে করোনাকালে কর্মসংস্থান নেই, কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় কমছে না, বরং বাড়ছে। এক্ষেত্রে জনগণের নিত্যদিনের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে টিসিবি’র বিক্রয় কেন্দ্র বহু মানুষের ভরসা। কিন্তু পুরো ঢাকা শহরে টিসিবি’র বিক্রয়কেন্দ্র মাত্র ৬৩টি। অর্থাৎ, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে বিক্রয় কেন্দ্র নেই। টিসিবি’র গাড়ি জনগণের প্রয়োজন মেটায় না। টিসিবি’র ট্রাকের সামনে দীর্ঘ লাইন, মানুষের হুমড়ি খেয়ে পড়াÑএটা নিত্য দিনের চিত্র। এতে সময় ও শক্তির অপচয় হলেও মানুষ উপায়হীন। আবার টিসিবির বর্তমান বিপণনের পদ্ধতিতে জনগণ তার প্রয়োজনীয় চাহিদায় পণ্য কিনতে পারছে না। কারণ, বিক্রয়কেন্দ্রে সরবরাহকৃত পণ্য পর্যাপ্ত নয়। আবার, একটি পণ্য না কিনলে অন্য পণ্য দেওয়া হবে না, দুই—তিনটা পণ্যের প্যাকেজ করে পণ্য বিপণন; এতেও ভোক্তা সংকটে পড়ছে। তাছাড়া বাজার দর বৃদ্ধির সাথে টিসিবি’র বিক্রয়কেন্দ্রে জিনিসের দাম বাড়ে। অথচ টিসিবি’র দায়িত্ব বাজার স্থিতিশীল রাখা।

করোনাকালে দেশের দারিদ্র্য সীমার হার ১০% থেকে বেড়ে দাড়িয়েছে ২৯%। এ অবস্থায় জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবার জন্য রেশনিং চালু করা, শ্রমজীবী মানুষের জন্য খাদ্য ভতুর্কি চালু জরুরি। ঢাকা দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর। এখানে প্রচুর মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস। উৎপাদনের সাথে সরাসরি যুক্ত জনগণের সংখ্যা বেশি। এ পরিস্থিতিতে আমরা টিসিবি’র চেয়ারম্যানের কাছে নিম্নোক্ত দাবি উত্থাপন করছি:

১. ঢাকা শহরে টিসিবি’র বিক্রয়কেন্দ্র বৃদ্ধি কর। প্রতি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা অনুপাতে টিসিবি’র বিক্রয়কেন্দ্র চাই।
২. টিসিবি’র বিক্রয়কেন্দ্রে পণ্য সরবরাহ বাড়াও। টিসিবি’র বিক্রয় কেন্দ্রে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করা যাবে না।
৩. চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য টিসিবি’র মাধ্যমে বিপণন করতে হবে।
৪. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ কর। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিশ্চিত কর।
৫. মূল্যবৃদ্ধি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ কর।
৬. ন্যায্যমূল্যের দোকান চালু কর।

শেয়ার করুন