ডেস্ক রিপোর্ট
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: মার্কিন সেনাদের আফগানিস্তান ত্যাগ এবং তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণের পর পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। যা এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার চিহ্ন এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টালের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান আগস্টে কমপক্ষে ৫২ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে জঙ্গিরা, যা ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে সর্বোচ্চ। বেশিরভাগ হামলা চালিয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান। আফগান তালেবানের সঙ্গেও যাদের সম্পর্ক রয়েছে। আফগান তালেবানদের বিজয়ে তারা উৎসাহিত হয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং ফেলো উমর করিম টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে ফোনে বলেন, আফগানিস্তানে যা ঘটেছে তাতে পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী আরও উৎসাহিত হয়েছে। আফগানিস্তানের নতুন পরিস্থিতির আগে থেকেই বিগত বছরগুলোতে ছোট ছোট গ্রুপগুলো একত্রিত হয়ে যাওয়ায় এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছিল’।
আফগানিস্তানে তালেবানদের বিজয়ে ইসলামাবাদও উদ্বেগ রয়েছে যে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়লে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ। এই প্রকল্পের অধীনে চীন পাকিস্তানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে ২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই বেইজিংয়ের চাপের মুখোমুখি হচ্ছে। গত জুলাই মাসে একটি বাস বিস্ফোরণে নয়জন চীনা নাগরিকসহ ১২ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার পর চীন পাকিস্তান সরকারকে এই ধরনের প্রকল্পের সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং ঝুঁকির ফলে ইতিমধ্যেই কমপক্ষে একজন বিদেশী বিনিয়োগকারী একটি পাকিস্তানি কোম্পানি অধিগ্রহণে পিছিয়ে গেছে।
ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অফ পিসের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ আসফান্দিয়ার মীর বলেন, পাকিস্তান এটা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলছে না। কিন্তু গত ২০ বছরে মার্কিন ড্রোন হামলা এবং পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের সমন্বয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়া পাকিস্তানি তালেবানের পুনরায় উত্থানের হুমকির বিষয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
পাকিস্তানের উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ এই যে, তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানে সরকারের তালিকায় থাকা অনেক জঙ্গি আফগানিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে। তবে আফগান তালেবান ইসলামাবাদকে আশ্বস্ত করেছে যে, তাদের মাটি সন্ত্রাসের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে পাকিস্তানে হামলা বেড়ে গেছে।
আফগানিস্তান থেকে চালানো জঙ্গিদের গুলিতে গত মাসে সংঘর্ষে দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হয় এবং এতে অনেকে আহতও হয়। সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখার পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সেনাবাহিনী সন্ত্রাসীদের ওপর আক্রমণ করলে আরও ৭জন সৈন্য মারা যায়।