ডেস্ক রিপোর্ট

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২:৫২ অপরাহ্ণ

প্রীতিলতার আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে মাগুরায় মহিলা ফোরামের আলোচনা সভা

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ ২:৫২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

মাগুরা প্রতিনিধি:: বীরকন্যা প্রীতিলতার ৮৯ তম আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম মাগুরা জেলা শাখার উদ্যেগে আলোচনা সভায় শোষণমুক্তির লড়াই এবং নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান জানানো হয়।

আজ শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিম দোয়ারপাড় আমতলায় সকাল ১০টায় আলোচনা সভায় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু।

বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) এর কেন্দ্রীয় নেতা কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা শাখার সংগঠক মোঃ সোহেল। সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মাগুরা জেলা শাখার সংগঠক ভবতোষ বিশ্বাস জয় ।

আলোচনা সভা শেষে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মাগুরা জেলা শাখার পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনা করা হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মাত্র ৭ জন সঙ্গী নিয়ে আক্রমণ করেন পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাব; দাম্ভিক ব্রিটিশেরা যেখানে সাইনবোর্ডে লিখে দিয়েছিল ‘কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ’। সফল আক্রমণ শেষে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন। জীবিত ধরা না পড়ার পূর্ব পরিকল্পনায় অবিচল থেকে তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড পান করে আত্মাহুতি দেন।

নেতৃদ্বয় জানান, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য অস্তমিত করা ও স্বাধীনতা সংগ্রামে পুরুষের পাশে নারীরাও লড়াই করতে পারেন—এ চেতনা জাগাবার জন্যে মাস্টারদা বেছে নিয়েছিলেন প্রীতিলতাকে। প্রীতিলতাও মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে গ্রহণ করেছিলেন জীবন দিয়ে জীবন জাগাবার মন্ত্র ‘do or die’। মাত্র একুশ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে জাগিয়ে তুলেছিলেন ভারতবাসীকে, ত্বরান্বিত করেছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলন, নারীদের সম্পর্কে সমাজের সংস্কারে করেছিলেন প্রচণ্ড আঘাত।

ইতিহাসের সংগ্রামী চেতনা, অতীতের বড় চরিত্র বর্তমান সংগ্রামে পথনির্দেশ করে। প্রীতিলতাসহ অগ্নিযুগের অগ্নি সন্তানেরা নতুন প্রজন্মকে সংগ্রামী মানুষ হতে শেখায়, অন্যায় করা নয়, অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করা নয়, অন্যায়কে রুখে দিতে শেখায়।

আজ থেকে ৮৯ বছর আগে প্রীতিলতা যে স্বাধীনতা, শোষণমুক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শৃংখল মুক্তির জন্য নির্ভিক চিত্তে জীবন দিয়েছিলেন, বাংলাদেশে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও মানুষ পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী শোষণ লুন্ঠনের যাতাকলে পিষ্ট হচ্ছে। এই করোনা দুর্যোগেও দেখা গেছে দেশের সকল প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি-দখলদারিত্ব-দলীয়করণে নিমজ্জিত, নারী-শিশু নির্যাতন-ধর্ষণ-হত্যা বেড়ে-ই চলেছে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোয়া, শিক্ষা-চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে হিমসিম খাচ্ছেন অভিভাবকরা, বেকার সমস্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এমন দেশ পাওয়ার জন্য কি প্রীতিলতা আত্মাহুতি দিয়েছিলেন? এখনকার তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হল একে পাল্টানোর জন্য লড়াই করা।

নেতৃবৃন্দ প্রীতিলতার সংগ্রামী জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে শোষণমুক্তির লড়াই ও নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন