ডেস্ক রিপোর্ট

২ আগস্ট ২০২১, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

সরকারের ব্যর্থতায় করোনার সাথে পাল্লা দিয়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে: এনডিএফ

আপডেট টাইম : আগস্ট ২, ২০২১ ৯:৩৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: সরকারের ব্যর্থতার কারণে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসের সাথে পাল্লা দিয়ে ডেঙ্গু জ্বরের সংক্রমণ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট।

আজ সোমবার (০৩ আগষ্ট) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি ডা. এম এ করিম ও সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অবঃ) এম জাহাঙ্গীর হোসাইন এই অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার কথায় উন্নয়নের ফিরিস্তি দিলেও ডেঙ্গু মশা নির্মূলে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, তেমনি গত এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা করোনা মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হয়েছে। দেশের অধিকাংশ জেলাতে এখনও হাইফ্লো নজেল অক্সিজেন সম্বলিত আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি অধিকাংশ জেলাতে করোনা পরীক্ষা পিসিআর ল্যাব পর্যন্ত স্থাপন করা হয়নি। করোনাভাইরাসের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরের রোগী। শুধু জুলাই মাসেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮৬ জন, যা ২০২০ সালে সারা বছর জুড়ে আক্রান্ত রোগীর চেয়েও বেশি। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ জানিয়েছেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার এই সময়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পরিস্থিতি মারাতœক আকার ধারণ করতে পারে। এখনই রোগীদের একটি আইসিইউ’র জন্য হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে। করোনার ক্ষেত্রে সরকার বৈশ্বিক মহামারি, নতুন রোগ এবং চিকিৎসা ও টিকার অপ্রতুলতার বিষয় সামনে আনলেও সরকারের চরম ব্যর্থতার কারণে সাধারণ এডিস মশা নির্মূল করতে না পারার বছর বছর মানুষকে জীবন দিতে হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন করোনার উচ্চ সংক্রমণের কারণে পরীক্ষা বিবেচনায় প্রতি তিন জনে এক জন শনাক্ত হচ্ছে এবং প্রতিদিনই দুশতাধিক মৃত্যু ঘটছে। আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বিবেচনায় নিলে তা দ্বিগুণের বেশি। অথচ সরকার মানুষের জীবনের কথা না ভেবে শুধুমাত্র গার্মেন্টস মালিকদের স্বার্থরক্ষায় কলকারখানা খুলে দিয়েছে। এমন কি মালিকদের স্বার্থরক্ষায় সরকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশও বিবেচনায় নেননি। আর গণপরিবহণ বন্ধ রেখে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সরকার ও মালিকরা শ্রমিকদের সাথে যে স্বেচ্ছাচারি আচরণ করেছে তা যেকোন সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাস্কর! সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা, উদাসহীনতা আর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে শ্রমজীবী নর-নারী স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই পায়ে হেটে, রিকশা-ভ্যানে, পণ্যবাহী ট্রাকে, মোটর সাইকেলে, প্রাইভেট গাড়িতে দ্বিগুণ/তিনগুণ ভাড়া দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবর্ণনীয় দূর্ভোগ সহ্য করে কর্মস্থলে ফিরেন। সরকার ও মালিকদের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে কারণে শ্রমিকরা শারিরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়েছে। সরকারের বিধিনিষেধ অমান্য করে গার্মেন্টস মালিকদের ‘লে-অফ’ ঘোষণার প্রেক্ষিতে শ্রমপ্রতিমন্ত্রী আইন কার্যকরে কঠোর হওয়ার পরিবর্তে মালিক প্রতি অনুরোধ জানান আর সেতুমন্ত্রীর মালিকরা কথা রাখেননি বললেও কথা না রাখার কারণে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। অথচ নিতান্ত পেটের দায়ে জীবিকার খোঁজে রাস্তায় নামা শ্রমিকদের জরিমানা ও শাস্তি দিতে সরকার পিছ পা হয়নি। শ্রেণি বিভক্ত এই রাষ্ট্রে আবারও এ ঘটনায় প্রমাণ হয় সরকারের কাছে মানুষের জীবনের চেয়ে মালিকদের স্বার্থরক্ষাই বড়!

নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সরকার কর্মহীন, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্য, চিকিৎসা ও আর্থিক নিশ্চয়তার কোন রকম দায়দায়িত্ব গ্রহণ না করে তথাকথিত লকডাউন চাপিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশের ভয় দেখিয়ে জনগণকে গৃহবন্দী করে রাখতে চাইছে। সিলিন্ডার গ্যাসসহ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে শ্রমজীবী জনগণ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যেখানে দুবেলা দুমুঠো ডাল ভাত জুটাতে পারে না, সেরকম অবস্থায় খাবার ছাড়া এই মানুষদের ঘরে থাকার কথা বলা তাদের সাথে উপহাস ছাড়া আর কি হতে পারে! তাই জনজীবনের সার্বিক বিপর্যয়ে ভবিষ্যতে মহামারি থেকে মহাদূর্ভিক্ষের সম্ভাবনাও থাকছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন কায়েমী স্বার্থবাদীদের স্বার্থরক্ষাকারী রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে মানবিকতা, জনজীবনের প্রয়োজন শুধু মুখেরই কথা, মূল লক্ষ্য হচ্ছে লুটপাট ও মুনাফা। দুর্যোগ মহামারিতেও এর ব্যতিক্রম ঘটে না। যার কারণে এই সময়ে স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের দূর্নীতির চিত্র বার বার সংবাদপত্রের শিরোনাম হয়েছে। একই করোনা ও ডেঙ্গু মোকাবিলা সরকারের চরম অব্যবস্থাপনার বিষয়ও সামনে এসেছে। করোনা মহামারিতে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ার সাথে সাথে লুটপাটকারীদের অর্থবিত্ত বৈভব বেড়ে যাওয়ায় দেশে ২০২০ সালেই ১০ হাজার ৫১ জন নতুন কোটিপতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা দালাল পুঁজি বিরোধী শ্রমিক-কৃষক জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন