ডেস্ক রিপোর্ট

১ আগস্ট ২০২১, ৯:২৬ অপরাহ্ণ

আগামী ৬ আগষ্ট সকল শিল্প শহরে বিক্ষোভ করবে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট

আপডেট টাইম : আগস্ট ১, ২০২১ ৯:২৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: গতকাল ৩১ জুলাই ২০২১, রাত ৮টায় গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ও নির্বাচীত সদস্যদের সভা কেন্দ্রীয় সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এর সঞ্চালনায় অনলাইন জুম প্লাটফরমে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস, দপ্তর সম্পাদক হাসনাত কবির, নির্বাহী সদস্য রুহুল আমিন সোহাগ, মোহা. সোহেল, মোহা. মহাসিন, নুর হোসেন সর্দার ও মোহা. নিরব প্রমুখ।

সভায় নেতৃবৃন্দ লকডাউনে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রেখে ১লা আগষ্ট থেকে রপ্তানিমূখী শিল্প কারখানা চালু করার অনুমোদন দিয়ে অর্থাৎ পরিবহন বন্ধ রেখে একদিনের মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছানোর নোটিশ দিয়ে শ্রমিকদের অমানবিক দুর্ভোগ এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়ায় তিব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গতকাল দেশের সকল গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে শিল্প কারখানার লক্ষ লক্ষ শ্রমিক একদিনের মধ্যে কর্মস্থলে ফিরতে কি অমানবিক কষ্ট শিকার করেছেন, অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন। সমালোচনার প্রেক্ষিতে সরকার বলছেন শিল্প মালিকরা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা শ্রমিকদের দিয়ে কারখানা চালু করার কথা এবং যেসকল শ্রমিক গ্রামের বাড়িতে আছেন তারা লকডাউনের পরে কর্মস্থলে ফিরলেও তাদের চাকরি হারাবেন না। শিল্প মালিক সমিতিও সংবাদ মাধ্যমে চাকরি থাকা এবং বেতন কর্তন না করার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে শিল্প মালিকরা তাদের ব্যবস্থাপকদের দিয়ে প্রত্যেক শ্রমিককে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য ম্যাসেজ পাঠিয়েছে বা ফোন করেছে। কোন কোন কারখানা মালিক নিজের ফেসবুক পেজে সকল শ্রমিককে ১লা আগষ্ট থেকে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে পোষ্ট দিয়েছে। আর শ্রম আইন নামক শ্রমিক বিরোধী আইন অনুসারে কোন শ্রমিক ছুটির পরে প্রথমদিন অনুপস্থিত থাকলে তার সম্পূর্ণ ছুটির দিন গুলিই অনুপস্থিত হিসাবে গণ্য হবে আবার একাধারে ১০ দিন অনুপস্থিতির অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্তও হতে পারে। এরকম একটি অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা জীবিকার জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। তাছাড়া কারখানা খোলার সংবাদ প্রকাশ করার সময় যে সকল শ্রমিক কর্মস্থলে আছে শুধু তাদের নিয়েই কারখানা চালু করার কোন নির্দেশনা জানানো হয়নি।

অধিকাংশ শ্রমিকরা ঝুঁকি এবং দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে কর্মস্থলের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার পর ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে তাদের এখন আসার দরকার ছিলনা। স্বল্প সময়ের জন্য গণপরিবহন চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নেতৃবৃন্দ এই আচরণ কে প্রতারণামূলক আচরণ বলে অবিহিত করেন এবং মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য দায়ি।

মালিকদের শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ভুল নয় পরিকল্পিত। পুর্বেও কারখানা মালিকরা কর্মস্থলে অবস্থানকারী শ্রমিকদের দিয়ে কারখানা চালানোর অনুমতি নিয়ে সারাদেশ থেকে শ্রমিকদের লকডাউনের মধ্যে কাজে যোগদিতে বাধ্য করেছিল আর নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে সচেতন এবং পুরাতন শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করেছিল। সরকারী নির্দেশনা অমান্য করার জন্য মালিক সমিতি বা কারখানা মালিকদের কোন শাস্তি পেতে হয়নি। ফলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিই স্বাভাবিক।

নেতৃবৃন্দ, লকডাউনের মধ্যে কর্মস্থলে উপস্থিত হতে না পারার কারণে কোন শ্রমিকের বেতন কর্তন বা চাকরিচ্যুতি বা চাকরির ধারাবাহিকতা নষ্ট করার কোন চেষ্টা সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারী ব্যাক্ত করেন এবং লকডাউনের মধ্যে শ্রমিকের যাতায়াত ব্যায়, অসুস্থ হলে চিকিৎসা-ক্ষতিপূরণ, ঝুঁকি ভাতা প্রদান এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা ও করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুতে সরকারী কর্মচারীদের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিতে আগামী ৬ আগষ্ট ২০২১, শুক্রবার, সকাল ১১টায় সকল শিল্প শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দেন।

শেয়ার করুন