ডেস্ক রিপোর্ট
৯ জুলাই ২০২১, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: দেশজুড়ে শাটডাউন ! কঠোর বিধিনিষেধে বাইরে বের হতে পারছে না সাধারণ দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ। কিন্তু বন্ধ নেই শিল্প কারখানা। এই কড়া লকডাউনেও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড বেভারেজ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৫২ জন শ্রমিক, নিখোঁজ শতাধিক। যথারীতি এই হত্যাকান্ডকেও রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমে নিছক দুর্ঘটনা , বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড হিসাবেই প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু এটা কি সত্যিই দুর্ঘটনা নাকি মুনাফাভিত্তিক ব্যবস্থার নির্মম হত্যাকান্ড?
আজ (৯ জুলাই) এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডকে মালিকসৃষ্ট বর্বরতম গণহত্যা হিসাবে অভিহিত করে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আরিফ মঈনুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন , রূপগঞ্জ ট্র্যাজিডি বাংলাদেশে নতুন কোন ঘটনা নয়!
তাজরীন, রানাপ্লাজা, আশুলিয়া, রূপগঞ্জ সবখানেই মালিকের মুনাফার প্রয়োজনে শ্রমিক হত্যার ইতিহাস রচনা হচ্ছে। রূপগঞ্জের হাশেম ফুড বেভারেজের সেজান জুস কারখানায় এর আগেও চারবার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবুও ছয়তলা ভবনের সুরক্ষা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি, ছিলো না অগ্নি নির্বাপনের পর্যাপ্ত ব্যাবস্থা। আগুন লাগার পরেই বিভিন্ন তলার ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। ভীত ,আতঙ্কিত অসহায় শ্রমিকদের কয়েকজন বাঁচার আকুতি নিয়ে ছাঁদ থেকে লাফিয়ে পড়ে, থেতলে যায় গোটা শরীর! কয়েকজন শিশু শ্রমিকসহ যারা ভেতরে আটকে ছিলো তারাও টানা ২০ ঘন্টা আগুনে পুড়েছে! বিল্ডিং এর গুদামে ভয়াবহ দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে মূহুর্তেই আগুণ ছড়িয়েছে,পুড়ে কয়লা হয়েছে কারখানার শ্রমিক।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই গণহত্যার সাথে শুধু ঐ কোম্পানি কিংবা কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নয় সরকারের বিভিন্ন মহল এর সাথে সরাসরি যুক্ত। এখানে মুনাফার প্রয়োজনে লকডাউন, শ্রম সুরক্ষা, শ্রম আইন সবকিছুকেই তামাশায় পরিণত করা হয়ছে। ফলে এই নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার আদায় করতে হলে সারাদেশে শ্রমিক বিদ্রোহের দাবানল জ্বালাতে হবে। সেই লড়াই ব্যতীত শ্রমজীবি মানুষের মুক্তি নেই।