ডেস্ক রিপোর্ট
৩ জুলাই ২০২১, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ভারতীয় নিম্নমানের কয়লা আমদানীর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে ভারতীয় কয়লা আমদানী বন্ধ ও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
আজ শনিবার (০৩ জুলাই ২০২১) এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে কমরেড খালেকুজ্জামান বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ভারতের ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ থেকে কলকাতা বন্দরে ৩ হাজার ৮০০ টন কয়লা খালাস করা হয়েছে যা জাহাজে করে মংলা বন্দরে পাঠানো হবে। পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর জন্য এই কয়লা আমদানী করা হচ্ছে। পুরো দমে বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে প্রতি মাসে ২০ হাজার টন কয়লা লাগবে যা ভারত থেকে আনা হবে। ভারতের পত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হলেও বাংলাদেশ বা ভারত সরকার এর পক্ষ থেকে কয়লা আমদানীর চুক্তির বিষয়ে দেশবাসীকে কিছু জানানো হয়নি। গোপনে এ কাজ করা হচ্ছে।
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে প্রাকৃতিক বর্ম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ধ্বংস হবে। প্রাণ প্রকৃতি পরিবেশ ধ্বংস হবে, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবাদী এমনকি ইউনেস্কো একথা বললেও সরকার তা কর্ণপাত না করে দেশের জনমত উপেক্ষা করে পরিবেশ ও সুন্দরবন বিনাশী এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলছে। ভারতীয় কয়লা পৃথিবীর সর্বনিন্মমানের। যেখানে ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়ার প্রতি কেজি কয়লায় ফ্লাই অ্যাশ হয় ৭০ গ্রাম, সেখানে ভারতীয় কয়লায় ফ্লাই অ্যাশ হয় ৩০০ গ্রাম। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫০ গ্রাম, ইন্দোনেশিয়ার ৫০০ গ্রাম কয়লা লাগে সেখানে ভারতীয় কয়লা লাগে ৭০০ গ্রাম।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় নিন্মমানের কয়লা ব্যবহার করলে খরচ ৪০ গুন বেশি হবে অন্যদিকে ফ্লাই অ্যাশ এর দূষণ বাড়বে ৫ গুন। বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দক্ষিণ ভারতে আদানী গ্রুপের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভারতের কয়লা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তখন আদানী গ্রুপ বিদেশী কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপদানের জন্য ট্যারিফ বাড়াতে অনুরোধ করলে আদালত তাও বাতিল করে দেয়। তখন আদানী ঐ কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ঝাড়খণ্ডে সরিয়ে এনে ঝাখ-ের গুড্ডায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে এবং সেখানকার বিদ্যুৎ বেশি দামে বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। কিন্তু ভারতীয় আইনে আছে যে রাজ্যে প্ল্যান্ট স্থাপিত হবে ঐ রাজ্যকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ২০% দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আদানী ঐ রাজ্যকে তাদের অন্য রাজ্যের প্ল্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিতে চেয়েছে এ সংকট এখনও মিমাংসা হয়নি। বাংলাদেশ কার স্বার্থে, কেন বেশি দামে ঐ বিদ্যুৎ কিনতে রাজী হয়েছে সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, বিগত কয়েক মাসে মংলা বন্দরে চলাচলের সময় ১১টি ফ্লাই অ্যাসের জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটেছে। সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে কয়লার জাহাজ আসা যাওয়া করলে বনের ইকোসিস্টেম যেমন নষ্ট হবে তেমনি নদীর পানি দূষিত হয়ে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে। বিবৃতিতে ভারত থেকে নিম্নমানের কয়লা আমদানী বন্ধ ও সুন্দরবন বিনাশী রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের জোর দাবি জানানো হয়।