ডেস্ক রিপোর্ট
২১ জুন ২০২১, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: রিকশা, ব্যাটারি রিকশা, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়ক শাহজাহান মিস্ত্রি, সদস্য সচিব আজিজ হাওলাদার; বরিশাল রিক্সা-ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি খুলনা ২৩২৪) এর সভাপতি দুলাল মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা সৈকত, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন ও সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদার এক বিবৃতিতে গত ২০ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রলায়ে সড়ক পরিবহণ টাস্কফোর্স এর সভায় সারাদেশে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধে নেয়া অযৌক্তিক ,গণবিরোধী ও তুঘলকি সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত দেড় বছরে করোনামহামারি ও টানা লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্থ নানা পেশার শ্রমিক এবং কর্মহীন, বেকার ও ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকের পাশে সরকার ও মালিক শ্রেনী দাড়ায়নি।
করোনার মহামারিতে নতুন করে আরো ২.৫ কোটি মানুষসহ দেশের ৫০ ভাগের উপরে মানুষ যখন দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছে, সেই সময়ে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে কর্মরত ৫০ লাখ রিকশা, ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান, ইজিবাইক, নসিমন, করিমন চালককে বেকার ও কর্মহীন করার চক্রান্ত চলছে। টাস্কফোর্সের সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলেন, “দেশের সব জায়গায় আমরা যানবাহনের ব্যবস্থা করতে পারনি।পণ্য ও যাত্রী পরিবহণে ব্যাটারি রিকশা ও ভ্যান বিকল্প হিসেবে কাজ করছে” তখন কার্যত তিনি এর অপরিহার্যতা স্বীকার করছেন।কিন্ত সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই পরিবহণের সাথে যুক্ত ৫০ লাখ চালক ও তাদের পরিবার পরিজনের জীবন- জীবিকার বিষয়ে কিংবা সারাদেশের অধিকাংশ সাধারন মানুষ যারা এর সুফল ভোগ করছেন তাদের জন্য আপনারা বিকল্প কি ভেবেছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবন্দ বলেন, টাস্কফোর্সের সভায় ব্যাটারি রিকশার ব্রেক পদ্ধতি বা তার কাঠামোগত দু্র্বলতার কারনে দুর্ঘটনার কারন দেখিয়ে তা রাস্তা থেকে থেকে উচ্ছেদের কথা বলছেন।কিন্ত সেই কাঠামোগত দুর্বলতা কাটানোর কোন সুপারিশ না করে রাস্তা থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত অনেকটা মাথা ব্যথার কারনে মাথা কেটে ফেলার মত।আজকে ডিজিটাল যুগে এসে ম্যানুয়্যাল প্যাডেল চালিত রিকশায় মানুষ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শারিরীক কষ্টকে লাঘব করতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক।ফলে টাস্কফোর্সের সভায় নেয়া এ সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও গণবিরোধী।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বিগত ৮ বছর ধরে নকশা আধুনিকায়ন ও নীতিমালা প্রনয়ণ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকসহ যান্ত্রিক যানবাহনের লাইসেন্স প্রদানসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।তিন দফা দাবিতে গত ১৫ মার্চ ঢাকায় সমাবেশ ও সড়ক পরিবহণ মন্ত্রনালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।আন্দোলনের চাপে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দু দফা বৈঠক করে ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইকের উপযোগিতা, কাঠামোগত দুর্বলতা নিরসন ও লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করার জন্য বিআরটিএ কে দায়িত্ব দিয়েছে।ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহণ সক্রান্ত সংসদীয় কমিটিও ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইককে রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আনার সুপারিশ করেছে।কিন্ত হঠাৎ করে তুঘলকি কায়দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী ও পরিবহণ মালিকদের উপস্থিতিতে টাস্কফোর্সের সভায় এই গনপরিবহণ বন্ধের সিদ্ধান্ত কোন চক্রান্তের অংশ কিনা তা জাতি জানতে চায়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ টাস্কফোর্সের সভায় ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক চলাচাল বন্ধে নেয়া অযৌক্তিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং নকশা আধুনিকায়ন ও নীতিমালা প্রনয়ন করে ব্যাটারিতালিত রিকশা ও ইজিবাইকসহ যান্ত্রিক যানবাহনের লাইসেন্স প্রদানের আহ্বান জানান।
কর্মসূচি: উপরোক্ত দাবিতে আগামীকাল ২২ জুন থেকে সারাদেশে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল এবং ২৩ জুন ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও সমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে।