ডেস্ক রিপোর্ট

৪ জুন ২০২১, ১০:০৩ অপরাহ্ণ

বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষায় বরাদ্দ না থাকায় গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নিন্দা

আপডেট টাইম : জুন ৪, ২০২১ ১০:০৩ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: গার্মেন্টসসহ সকল শ্রমিকদের জন্য আর্মি রেটে রেশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা, স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের দাবি ২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট ভাবে বরাদ্দ না করার প্রতিবাদে এবং গার্মেন্টসসহ সকল শ্রমিকদের জন্য রেশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা, স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করতে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট” এর উদ্যোগে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয় ।

আজ শুক্রবার ,০৪ জুন ২০২১, সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয়।

গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসান হাবিব বুলবুল এর সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, রুহুল আমিন সোহাগ, মোহাম্মদ সোহেল, আনোয়ার খান, নুর হোসেন সর্দার, কামাল হোসেন প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, গতকাল জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লক্ষ ৩ হাজার ৬ শত ৮১ কোটি টাকার বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তির বাজেট অর্থাৎ ৫০তম বাজেট এবং করোনাকালের দ্বিতীয় বাজেট উপস্থাপিত হয়েছে। করোনা অতিমারির প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি যেখানে স্থবির হয়ে পড়েছে সেই সময় ও বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, জিডিপি বেড়েছে। করোনা সংক্রমণের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা উৎপাদনের চাকা সচল রাখায় অর্থনীতির এই প্রবৃদ্ধি অর্জীত হয়েছে। অথচ শ্রমিকের আয় কমেছে, প্রায় ৫২ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষ আয় কমে যাওয়ায় তাদের দৈনিক খাদ্য ব্যায় কমাতে বাধ্য হয়েছে। শ্রমিকদের শ্রম অধিকারের মারাত্মক সংকোচন, অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া, মারাত্মক অর্থনৈতিক বৈষম্য, দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার মত সংকট নিরসনের কোন সুস্পষ্ট উদ্যোগ উত্থাপিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, পরিবহন ছাড়া মাইলের পর মাইল পায়ে হেটে যে গার্মেন্টস শ্রমিকরা করোনার মধ্যে উৎপাদন আর রপ্তানির চাকা সচল রাখল, করোনায় জীবনযাপন প্রক্রিয়ার ব্যায় বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, বাড়ি ভাড়া-গাড়ি ভাড়া-গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সেই শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি প্রায় অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় তারা অভূক্ত অবস্থায় দিনকাটাতে বাধ্য হচ্ছে। বাজেটের আকার বাড়লেও এই শ্রমিকদের ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য সরবরাহ, অসুস্থতায় চিকিৎসার নিশ্চয়তা কিংবা স্বল্পমূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাথা হয়নি। সরকারি কর্মচারীদের পেনশন আর সঞ্চয় পত্রের সুদ পরিশোধের ব্যায় কে যুক্ত করে সামাজিক নিরাপত্তার খাতের বরাদ্দের পরিমাণ কে বেশী দেখিয়ে প্রকৃতপক্ষে শ্রমজীবী মানুষদের ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের শ্রম অধিকার বাস্তবায়নের দায়িত্ব মপ্রাপ্ত শ্রম মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেট ২০২০-২১ অর্থ বছরে ছিল ২২০ কোটি টাকা যা বৃদ্ধির পরিবর্তে ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৩৪ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ব্যায় মাত্র ১০৪ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে অথচ শুধুমাত্র ৪০ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিককে আর্মি রেটে রেশন দিতে মাত্র ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। বাজেট বরাদ্দের এই চিত্র বলে দেয় সরকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের রেশন, আবাসন কিংবা সার্বজনীন পেনশন স্কীমের দাবির প্রতি কর্ণপাত করেনি। শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ রাখা নাহলেও ভ্যাটের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করে শ্রমজীবী মানুষের পকেট কাটার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাকালে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা যে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়নি বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে তা সুস্পষ্ট। তাই সুনির্দিষ্ট ভাবে খাত ভিত্তিক বরাদ্দ দিয়ে রেশন প্রদানের ব্যবস্থা করা ছাড়া ও.এম.এস কিংবা টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে কর্মরত শ্রমিককের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা যায়না। আর শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, তাদের জীবনমানের উন্নয়ন না ঘটিয়ে, তাদের উৎসাহিত করতে ঝুঁকি ভাতা প্রদানের মত প্রণোদনামূলক পদক্ষেপ না নিয়ে, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না করে, শুধু মালিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করে মানসম্মত উৎপাদন কিংবা সামাজিক স্থিতিশীলতার স্বপ্ন দেখা অর্থ হলো প্রচন্ড নীপিরন চালিয়ে শ্রমিকের দাবি দমন করা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশের নামে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকদের চুপ করিয়ে রাখা।

নেতৃবৃন্দ, পাশের আগে প্রয়োজনীয় সংশোধনির মাধ্যমে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আর্মি রেটে রেশন, আবাসন, চিকিৎসা এবং সার্বজনীন পেনশন নিশ্চিত করতে বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ দেওয়ার জোর দাবি জানান। সমাবেশ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল তোপখানা রোড এলাকা প্রদিক্ষণ করে।

 

শেয়ার করুন