ডেস্ক রিপোর্ট
২ জুন ২০২১, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: মৌলভীবাজারের সীমান্তের উপজেলা বড়লেখার ৫নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের ছোটলেখা চা বাগানে ১৯৭৯ সালে তৎকালীন বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সাব-লীজ নিয়ে কিছু খাসি পরিবার আগার পান পুঞ্জি গড়ে তোলেন।
বর্তমানে মোট ৪৮ টি পরিবার ২৭২ একর জমিতে পানচাষ সহ ভোগ দখল করছেন। এই পুঞ্জির পানচাষী রিলট পডুউইং এর পানজুমের ২০/২২ বছরের প্রাপ্তবয়ষ্ক পূর্নাঙ্গ উৎপাদনশীল হাজার খানেক পানগাছ বিগত ৩০ মে ২০২১, রবিবার রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা গোড়া থেকে কেটে ফেলে। আনুমানিক দশ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরদিন জুমে কাজ করতে গিয়ে পানচাষীরা এই বিপর্যয় দেখতে পান। কর্তিত পানগাছ এমনভাবে নষ্ট হয় যে, সেখান থেকে কোন পান সংগ্রহ করারও সুযোগ ছিল না।
এই ঘটনার ঠিক দুদিন আগে বিগত ২৮/০৫/২০২১ তারিখ, শুক্রবার সকাল ৭ টার সময় ছোটলেখা চা বাগানের অপর অংশে ২০০৭ সাল থেকে আরও ২৭২ একর জমি সাব-লীজ নিয়ে ৩৬টি খাসি পরিবারের বিগত ১৫ বছর যাবত গড়ে তোলা বনাখালা পানপুঞ্জির ১০ টি পরিবারের পূর্ণ উৎপাদনশীল পানজুম স্থানীয় বোবারথল এলাকার ৫০/৬০ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী জোরপূর্বক দখল করে নেয়।
এই দুটি ঘটনার আগেও নিরীহ, শান্তিপ্রিয় এবং প্রান-প্রকৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনকারী এই খাসি জনজাতির জান-মালের উপর লাগাতার হামলা, দখল- বেদখলের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষত পানপুঞ্জির আশেপাশে বসবাসরত এক শ্রেনীর দখলবাজ দুর্বৃত্তরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি, জুম দখল ইত্যাদি অপকর্মের হোতা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব ঘটনার বিচার না হওয়ায় এবং খাসি জনজাতির জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় তরফে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে।
খাসি জনজাতির জীবন-জীবিকার উপর এমনতর আঘাত প্রতিরোধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ডাডলি ডেরিক প্রেন্টিস, জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের মহাসচিব ফিলা পতমি আক্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত আগার ও বনাখালা পান পুঞ্জি পরিদর্শন এবং পুঞ্জির অধিবাসীদের সাথে মতবিনিময় করেন, তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
এসময় উপস্থিত বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিকদের মাধ্যমে মৌলভীবাজার জেলা সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে তড়িৎ পদক্ষেপ গ্রহণ করে উভয় পুঞ্জির ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষিকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং বেদখল হওয়া পানজুম পুনরুদ্ধার করা, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী খাসি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
খুব শীঘ্রই মৌলভীবাজার জেলার সর্বস্তরের শ্রেনী- পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে খাসি জনজাতির জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় করণীয় নির্ধারণ এবং কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।