ডেস্ক রিপোর্ট

৩০ মে ২০২১, ১০:৪২ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আক্ষেপ নিয়ে চলে গেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন

আপডেট টাইম : মে ৩০, ২০২১ ১০:৪২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

তৌহিদুর রহমান পলাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:: বানিয়াচংয়ে ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হওয়া ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন মেম্বার আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। রোববার সকাল ৭ টায় বানিয়াচং উপজেলা সদরের কালিকাপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ীতে তিনি মারা যান।

রোববার (৩০ মে) বিকাল ৫.১৫ মিনিটে কালিকাপাড়া মসজিদের সামনে জানাজা শেষে পারিবারিকর করবস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। এসময় রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার না দেওয়ায় ক্ষোপ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

ছাত্রজীবনেই মহান মুক্তিসংগ্রামে যোগ দিয়ে ৬৯’ এর গণঅভ্যুত্থানে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে গুলিবৃদ্ধ হন। পরবর্তীতে ৭১’সালে ছাত্রজীবনেই কলম-খাতা ছেড়ে অস্ত্র হাতে জীবন বাজি রেখে সশস্ত্র যোদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নিজ এলাকা বানিয়াচং হলেও তিনি তার কমান্ডারের ডাকে যোদ্ধ করেন নবিগঞ্জ উপজেলায়। টেকেরঘাট যোদ্ধে অংশ নিয়ে আহত হন জয়নাল আবেদীন। মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহন করার কারনে জয়নাল আবেদীনের বাড়ী ঘড় লুটপাট ও পুড়িয়েছিল পাক বাহিনী। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি অর্থ ও নানাবিধ জটিল রোগে ভুগেছিলেন। অর্থ সংকটে প্রায় চিকিৎসাহীন অবস্থায় ছিলেন এই বীর যোদ্ধা।

এলাকাবাসী জানান, মুক্তিযোদ্ধের তালিকায় নাম না থাকার বেদনায় শেষ বয়সে কাতর ছিলেন মুক্তি পাগল মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সহ অনেক জায়গায় তদবির করে ব্যর্থ হলেও অবশেষে সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন। কিছুদিন পূর্বে; বুকে আর্তনাদ আর অসুস্থতা নিয়ে এই অসমাপ্ত জীবনের গল্প বলেছিলেন গনমাধ্যাম কর্মীদের। আজ তাঁর জীবনের গল্প সমাপ্তির পথে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানান , তাঁর সকল ডকুমেন্টস যাচাই করে- তাঁকে যেন ন্যায্য অধিকার ও মুক্তিযোদ্ধের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

তার মৃত্যুতে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসনের এমপি এড. আব্দুল মজিদ খান এক শোকবার্তায় বলেন ৬৯’রে জয়নাল আবেদীন ছাত্রজীবনেই বানিয়াচং’গে প্রথম পাতাকা উত্তোলন করতে গিয়ে পাক বাহীনির গুলিতে আহত হন। দেশ মাতাকে ভালবাসে তিনি সরাসরি মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিলেন। তার দেশপ্রেম ও সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এছাড়া আরও শোক প্রকাশ করেন বি,এন,পির কেন্দ্রীয় সাংগঠিন সম্পাদক ডাঃ সাখাওয়াত হাসান জীবন, মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আমীর হোসেন মাষ্টার, উপজেলা চেয়ারম্যান কাশেম চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বি,এন,পি নেতা শেখ বশির আহমেদ, ২নং ইউ/পি চেয়ারম্যান ওয়ারিশ উদ্দিন খান, ৪নং ইউ/পি চেয়ারম্যান রেখাছ মিয়া,বিএন,পি নেতা মজিবুল হোসেন মারুফ ও বানিয়াচং প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা আঙ্গুর মিয়া, সভাপতি মোশাহেদ আলী,সাধারন সম্পাদক খলিলুর রহমান, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তানিয়া খানম, সাংবাদিক ও সিপিবি নেতা ইমদাদুল হোসেন খান,উপজেলা বাসদের সাধারন সম্পাদক এর,আর সি কাওছার, স্বেচ্ছসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক আসশাফ চৌধুরী বাবু সহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন