ডেস্ক রিপোর্ট

১৯ মে ২০২১, ৮:২২ অপরাহ্ণ

গাজায় ইজরাইলের গণহত্যা বন্ধ করতে ঢাকায় বাসদ(মার্কসবাদী)’র মিছিল

আপডেট টাইম : মে ১৯, ২০২১ ৮:২২ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: গাজায় ইসরাইলী হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) আজ ১৯ মার্চ দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও মিছিল করে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ(মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটি সদস্য কমরেডস মানস নন্দী, ফখ্রুদ্দিন কবির আতিক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সভাপতি মাসুদ রানা।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, “প্যালেস্টাইন-ইসরাইল সংঘাতকে মুসলমান ও ইহুদিদের মধ্যে ধর্মযুদ্ধ হিসেবে দেখার প্রবণতা আমাদের দেশে ব্যাপকভাবেই আছে। আমেরিকা যখন ইরাকে বা আফগানিস্তানে হামলা চালায় তখন মৌলবাদীরা একে মুসলিমদের ওপর খ্রিস্টানদের হামলা হিসেবে দেখায়। এই দৃষ্টিভঙ্গী একেবারেই ভুল। মধ্যপ্রাচ্যের তেল-সম্পদের ওপর দখল প্রতিষ্ঠা ও এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থেই ইরাক-লিবিয়া-সিরিয়ায় হামলা, একই উদ্দেশ্যে ইসরাইলকে সমর্থন। অন্যদিকে ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সারা দুনিয়ার বিবেকবান মানুষ ফিলিস্তিনীদের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন করছে এবং ইসরাইলী বর্বরতা ও দখলদারিত্বের প্রতিবাদে রাস্তায় নামছে। ইসরাইলী শাসকদের প্রবল জাতিগত ও ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টির চেষ্টার মধ্যেও ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের মানুষেরা আছেন। সংখ্যায় কম হলেও খোদ ইসরাইলে গাজায় পরিচালিত গণহত্যার বিরুদ্ধে সেখানকার বামপন্থী দল, যুদ্ধবিরোধী সংগঠন, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক সংগঠন বিক্ষোভ করছে, বরং তথাকথিত ‘মুসলিম উম্মাহ’ এক্ষেত্রে প্রায় নীরব। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসরাইলের নিন্দা করেছেন, কিন্তু ইসরাইলকে মদত দিচ্ছে যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার বিরুদ্ধে কোন কথা বলেননি, বরং নানাভাবে তাদের আশীর্বাদ লাভের প্রতিযোগিতা করছেন।”

বক্তারা আরো বলেন, “দুই হাজার বছরেরও আগে রোমান সাম্রাজ্যের দ্বারা ফিলিস্তিন থেকে উচ্ছেদ হয়ে ইহুদি জনগোষ্ঠী সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে শত শত বছর ধরে তারা ধর্মীয় বিদ্বেষ ও নিপীড়নের শিকার হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে হিটলার নেতৃত্বাধীন জার্মানির হাতে গণহত্যার শিকার হওয়া ইহুদিদের প্রতি বিশ্বব্যাপী সহানুভূতি সৃষ্টি হয়। একে কাজে লাগিয়ে, নিজস্ব একটি রাষ্ট্রের জন্য ইহুদিদের একাংশের জায়নবাদী আন্দোলনকে সহযোগিতা করে, ফিলিস্তিনী ভূমিতে গায়ের জোরে ইসরাইল রাষ্ট্র সৃষ্টিতে আমেরিকা ও ব্রিটেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসরাইল বাস্তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাটি হিসেবে ভূমিকা রাখছে। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ঐতিহাসিক প্যালেস্টাইনের ৫৬% ভূমিতে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা ও ৪৪% এলাকা ফিলিস্তিনীদের বরাদ্দ দিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করে। ইসরাইল রাষ্ট্র ঘোষণার সময় বলপ্রয়োগে উচ্ছেদ করা সাড়ে ৭ লক্ষ ফিলিস্তিনীর নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকারকে সমর্থন করে সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাশ হয়। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে ইসরাইল কর্তৃক অধিকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলী সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান সম্বলিত প্রস্তাব পাশ হয়। কিন্তু এর কোনটিই মানতে ইসরাইলকে বাধ্য করা যায়নি মার্কিন সমর্থনের কারণে। ১৯৯৩ সালে স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তি অনুসারে ইয়াসির আরাফাত ইসরাইল রাষ্ট্রকে মেনে নেন, বিনিময়ে ইসরাইল ধাপে ধাপে পশ্চিম তীর ও গাজার সমন্বয়ে ঐতিহাসিক প্যালেস্টাইনের ২২% ভূমি নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেয়। এই চুক্তিতে বলা হয় প্রথম ধাপে দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলী সেনা ও ইহুদি বসতি প্রত্যাহার করা হবে। কিন্তু ইসরাইল নানা কৌশলে ভূমি দখল করছে ও ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে প্যালেস্টাইনীদের ওপর দমন-নির্যাতন চালাচ্ছে। বর্তমানকালে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু রাষ্ট্রক্ষমতায় পুনর্বার থাকতে মরিয়া। এ কাজে তার প্রধান হাতিয়ার উগ্র জায়নবাদের ভিত্তিতে প্রবল জাতিগত ও ধর্মীয় উম্মাদনা-বিদ্বেষ সৃষ্টি।”

শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, “সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিগুলোর সমর্থনপুষ্ট এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান-অর্থনীতি-সামরিক শক্তিতে অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ার পরও একটি ক্ষেত্রে ইসরাইল সহায়-সম্বলহীন ফিলিস্তিনীদের কাছে পরাজিত হয়েছে। শত অত্যাচার করেও ফিলিস্তিনীদের স্বাধীনতার স্পৃহা ও প্রতিরোধের মনোবলকে তারা নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। ফিলিস্তিনী ভূমির জবরদখল বিশ্ববাসীর কাছে এখনো নৈতিক বৈধতা পায়নি। বিশ্বের যেখানে যারা অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে ফিলিস্তিনী জনগণের অদম্য সংগ্রাম তাদের প্রেরণা। বাংলাদেশেসহ বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের আশু কর্তব্য – নিপীড়িত ফিলিস্তিনীদের রক্ষায় ইসরাইলী বোমাবর্ষণ অবিলম্বে বন্ধ করতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ-দখলদারিত্বমুক্ত ‘দুই রাষ্ট্র’ সমাধানের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হওয়া।”

শেয়ার করুন