ডেস্ক রিপোর্ট
১৮ মে ২০২১, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে কেন্দ্রীয় প্রগতিশীল ছাত্র জোট। আজ মঙ্গলবার, ১৮ মে দুপুর ১২ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক মুক্তা বাড়ৈ এর সঞ্চালনায় ও ছাত্র জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স এর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটুর সভাপতি মাসুদ রানা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “দুর্নীতি কখনও প্রকাশ্যে থাকে না, গোপনেই থাকে। আর সেই গোপন দুর্নীতির খবর জনসম্মুখে উন্মোচন করাই সাংবাদিকতা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাহাড় সমান দুর্নীতির প্রমাণ ইতোমধ্যে সারা দেশবাসীর কাছে পানির মত পরিষ্কার। সেই দুর্নীতি বন্ধ করে কার্যকরভাবে করোনা মোকাবেলার উদ্যোগ না নিয়ে দুর্নীতির খবর যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্যই সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ৫ ঘন্টা সচিবালয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য অবিলম্বে দুর্নীতিবাজদের পাহাড়াদার স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও সচিবের পদত্যাগ করা উচিত। আমরা এই সমাবেশ থেকে নির্যাতনের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি”।
সভাপতির বক্তব্যে নাসির উদ্দিন প্রিন্স বলেন, একের পর এক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভয়াবহ দুর্নীতির খবর রোজিনা ইসলাম দেশবাসীর কাছে তুলে ধরছিলেন। এতেই ক্ষীপ্ত হয়ে আমলারা তাকে ৫ ঘন্টা আটকে রেখে নির্যাতন করে নিজেদের আক্রোশ চরিতার্থ করে। সে আক্রোশের কিছু ভিডিও ক্লিপও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে। এরপর কুখ্যাত উপনিবেশিক অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্টে তার নামে মামলা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বলা সরকার আদতে দুর্নীতি প্রকাশের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছে। ২০১৮ সালে এই সরকার দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করে গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসেছে, তাই সে সাংবাদিকদেরকে ভয় পায়, জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে ভয় পায়, পুলিশ এবং আমলাদের দিয়ে পুরো দেশকে বন্দি করে রাখতে চায়। দেশবাসী জানতে চায় কি এমন আছে ওই ফাইলে, যার জন্য একজন সাংবাদিককে এমনভাবে নির্যাতন করতে হবে। ওই ফাইল জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা হোক, এতেই প্রমাণ হয়ে যাবে দুর্নীতি হয়েছে কি হয়নি”।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবি করেন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান। মত প্রকাশের অধিকার ও ন্যুনতম মানবিক অধিকার আদায়ে তারা সকল স্তরের জনগণকে আন্দোলনে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান।