ডেস্ক রিপোর্ট

৯ মে ২০২১, ৬:০৮ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থীকে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবি ছাত্র ফ্রন্টের

আপডেট টাইম : মে ৯, ২০২১ ৬:০৮ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি:: শিক্ষার্থীকে করোনা ভ্যাকসিন দাও, শিক্ষা জীবনের অনিশ্চয়তা দূর করে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার রোড ম্যাপ দ্রুত ঘোষণা করাসহ ৩ দফা দাবিতে বগুড়ায় সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রিয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে আজ রোববার, ০৯ মে সকাল সাড়ে ১১ টায় সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ এবং পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা সংগঠক পূজা প্রামাণিক।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন। বক্তব্য রাখেন বাসদ জেলা সদস্য রাধা রানি বর্মন, সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার সদস্য সচিব নিয়তি সরকার নিতু, স্কুল সম্পাদক আয়েশা আক্তার রিতু, জেলা সংগঠক ফরহাদ হোসেন,
পলিটেকনিক সংগঠক সানজিদ মাহমুদ সিয়াম প্রমুখ।

রাধা রানি বর্মন বলেন, শিক্ষা জীবন কবে স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে এক ভয়ঙ্কর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন যাপন করছে শিক্ষার্থীরা। দেশে সবমিলিয়ে শিক্ষার্থী প্রায় পাঁচ কোটি। এর প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনই আজ বিপর্যস্ত ও অনিশ্চিত। প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মূল ধারার হওয়ায় এদের বড় একটা অংশই পড়াশোনা করেন কোননা কোন প্রাইভেট স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে। এদের সংকট সব থেকে বেশি। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার থেকে কোন বরাদ্দ পায় না, নির্ভর করতে হয় শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর। গত বছরের মার্চ মাস থেকে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ। অভিভাবকদের আয় রোজগারও অচলাবস্থায়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরাও অতিকষ্টে জীবন যাপন করছেন। মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। বহু শিক্ষক শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ফল-সবজি বিক্রিসহ অন্যান্য নানা কাজ করতে শুরু করেছেন, এমন ঘটনাও আমরা দেখছি। একদিকে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা বেতন ফি আদায়ে চাপ দিচ্ছেন, অন্যদিকে অভিভাবকরাও দাবি করছেন বেতন ফি মওকুফ করা হোক। করোনাকালে এই বিপুল পরিমাণ বেতন-ফি শিক্ষার্থীদের পরিশোধ করতে হলে বিশাল
অংশের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে ছিটকে পড়বে। দারিদ্র্যে নিমজ্জিত পরিবারগুলোতে দীঘর্ সময় ঘরে বসে থাকা অনেক শিক্ষার্থীর জন্যই কষ্টকর। তাই এই অনিশ্চয়তার কারণে একদিকে বাল্য বিবাহ বাড়ছে অন্যদিকে তারা পড়ালেখার আশা ছেড়ে দিয়ে কর্মক্ষেত্রে জায়গা করে নেবার চেষ্টায় আছে।

ধনঞ্জয় বর্মন বলেন,‘অনলাইন শিক্ষা’ চলছে নাম কাওয়াস্তে। ব্র্যাক ইন্সটিটিউট অফ গভার্ন্যান্স এন্ড ডেভলপমেন্ট এর গবেষণায় এর একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে বলা হচ্ছে, ৬৩% গ্রামীণ পরিবার ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ বঞ্চিত। ৮৭% পরিবারের ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয় দক্ষতা নেই। ফলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ব্যাতীত অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে কোন ফলাফল বয়ে আনা সম্ভব নয়। বরং এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিশাল অংশের শিক্ষার্থীদেরকে বাদ দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান বৈষম্যকে আরো প্রকট করা হবে বলেই শিক্ষাবীদরা মত দিচ্ছেন।

শেয়ার করুন