ডেস্ক রিপোর্ট

৬ মে ২০২১, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধসহ বিভিন্ন দাবিতে বগুড়ায় সমাবেশ

আপডেট টাইম : মে ৬, ২০২১ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

বগুড়া প্রতিনিধি:: চাল, ডাল, তেল-নুন-পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বাজার মনিটরিং জোরদার, গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের সামরিক বাহিনীর রেটে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা, ঈদের আগেই গার্মেন্টসসহ সকল শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন-সমাবেশ।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার, ০৬ মে সকাল সাড়ে ১১ টায় বগুড়া সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলা সমন্বয়ক ও সিপিবি বগুড়া জেলা সভাপতি কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না।

বক্তব্য রাখেন বাম গণতান্ত্রিক জোট বগুড়া জেলার অন্যতম নেতা বাসদ বগুড়া জেলা আহবায়ক কমরেড এ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু, সিপিবি বগুড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ফরিদ, বাসদ বগুড়া জেলা সদস্যসচিব সাইফুজ্জামান টুটুল, গণসংহতি আন্দোলনের বগুড়া জেলা সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ, সিপিবি সদর উপজেলা সভাপতি সন্তোষ পাল প্রমূখ।

সমাবেশ সঞ্চালনা করেণ বাসদ বগুড়া জেলা সদস্য দিলরুবা নূরী ।

কমরেড জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর রোজা আসলেই আমাদের দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বেড়ে যায়, এ বারও রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে থেকেই ব্যবসায়িরা তাদের মুনাফা বৃদ্ধির অপকৌশল হিসাবে জিনিস পত্রের দাম বৃদ্ধি করেছে। এই মূল্যেবৃদ্ধির ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় আমাদের দেশের সাধারণ গরীব মানুষেরা অথচ অন্যদেশের দিকে আমরা তাকালে দেখি রমজান মাসে জিনিস পত্রের দাম কমে কিন্তু আমাদের দেশের অবস্থা সম্পূর্ন বিপরীত। এখানে রমজান মাসে দাম বৃদ্ধিপায়। এই মাসে সিন্ডিকেট ব্যবসায়িরা তাদের মুনাফা বৃদ্ধি করতে মানুষকে জিম্মি করে ফেলে। তাই তিনি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বাজার মনিটরিং ও মূল্যে নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা জোরদার করা এবং মজুতদার-কালোবাজারী-ব্যবসায়ি সিন্ডিকেট নির্মূলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার বিষয় স্বাধীনতার পর জাতীয় সংসদে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সাড়ে ১৭ ভাগ ছিলেন ব্যবসায়ী। ১৯৯১ সালে যা বেড়ে ৩৮ ভাগে দাড়ায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে শপথ নেওয়া সংসদ সদস্যদের ১৮২ জনই পেশায় ব্যবসায়ী। বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে আছেন ব্যবসায়ীরা। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে ব্যবসা আর মুনাফাই প্রাধাণ্য পাবে এটাই স্বাভাবিক আর সেই ঘটনাই ঘটছে। এজন্যই আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘‘রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে। তিনি অবিলম্বে দেশের এই অবস্থা পরিবর্তনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহŸান জানান।

কমরেড অ্যাড. সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুতে মানুষ দুর্বিসহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। এই প্রেক্ষিতে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী মানুষ নানা ভাবে কর্মহীন-উপার্জনহীন হয়ে চরম দুর্দশাগ্রস্থ। বর্তমান পরিস্থিতির স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় সকলের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে সরকার স¤পুর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষ। কর্মহীন মানুষদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত রেশনিং এর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন কি›তু সেই ক্ষেত্রে সরকার চরমভাবে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তাই তিনি শ্রমজীবী কর্মহীন মানুষের জন্য পর্যাপ্ত রেশনিং দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন শ্রমিকের শ্রমই দেশের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এই সত্যটি করোনাকালে সবার সামনে আরও স্পষ্ট হয়েছে। দেশের প্রবাসী শ্রমিক ও গার্মেন্ট শ্রমিকরা দেশে যে পরিমান রেমিটেন্স আনছে তা আমাদের অর্থনীতির একটা বড় ভিত্তি তৈরি করছে। অথচ এই শ্রমিকেরা দিনেরপর দিন অবহেলিত থাকছে। কয়েকদিন পরেই আমাদের দেশের মুসলিম ধর্মবলাম্বীদের বড় উৎসব ঈদ, তাই ঈদের আগে সকল শ্রমিকের বকেয়া বেতন-ভাতা, চলতি মাসের বেতন ও পূর্ণ উৎসবভাতা পরিশোধ করতে সকল মালিক ও সরকারের প্রতি অহবান জানান এবং সেইসাথে যে পুজিঁবাদী- ভোগবাদী আজকের এই সমাজ, মুনাফাভূগি মজুতদার-কালোবাজারী-ব্যবসায়ি সিন্ডিকেট কে রক্ষা করে সেই পুজিঁবাদী-ভোগবাদী এই সমাজ ভাঙ্গার লড়াইয়ে দেশের শ্রমিক-কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণ কে যুক্ত হওয়ার আহবান জানন।

সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে চাল, ডাল, তেল-নুন-পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বাজার মনিটরিং জোরদার, গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের সামরিক বাহিনীর রেটে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা এবং ঈদের আগেই গার্মেন্টসসহ সকল শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন-বোনাস পরিশোধের জোর দাবি জানান।

শেয়ার করুন