ডেস্ক রিপোর্ট

২০ এপ্রিল ২০২১, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠকে যে কথা হলো

আপডেট টাইম : এপ্রিল ২০, ২০২১ ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে সোমবার রাতে বৈঠক করেছেন।

সংগঠনটির মহাসচিব নূরুল ইসলাম জেহাদীর নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদলে সদ্য আটক হওয়া হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ভাই মাহফুজুল হকও ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে দিনের বেলায় সংগঠনটির নেতারা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ‘ঢালাও গ্রেপ্তার’ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে বলে ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক হেফাজত নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে জানান।

এছাড়া ওই বৈঠকের পর প্রতিনিধি দলটির একাধিক সদস্য নিশ্চিত করেছেন, তাদের আলোচনায় মূলত তিনটি বিষয় এসেছে- ঢালাও গ্রেপ্তার বন্ধ, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্ত এবং কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়া।

গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের মুক্তিও দাবি করেন বৈঠকে অংশ নেওয়া হেফাজত নেতারা।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিনে হেফাজতের ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীসহ বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর ঘিরে গত ২৬ মার্চ থেকে তিন দিন ধরে ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং হাটহাজারীসহ বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার ঘটনায় একশোটির মতো মামলা রয়েছে।

এছাড়াও ২০১৩ সালে হেফাজতের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে যে সহিংসতা হয়েছিল, সেই মামলাগুলোও এখন তাদের কয়েকজন নেতাকে আটক দেখানো হয়েছে।

বৈঠকে হেফাজত নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ‘এভাবে ঢালাও গ্রেপ্তারের কারণে ভুল বোঝাবুঝির’ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের জানিয়েছেন, কোনো ঢালাও গ্রেপ্তার হচ্ছে না; বরং সাম্প্রতিক সময়ে যেসব সহিংসতা ঘটেছে, সেগুলোর ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

হেফাজত নেতারা বলছেন, তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্তের অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে বলেছেন, হেফাজত সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, এমনকি তারা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনও নয়।

তারা বলছেন, তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চাইছেন এটি তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।

একই সঙ্গে রোজার মাসে কওমি মাদ্রাসার আয় বেশি হয় এবং অনেক মাদ্রাসায় ‘এতিম শিক্ষার্থী’রা থাকে উল্লেখ করে মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার কথা বললে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এটি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিষয়।

শেয়ার করুন