ডেস্ক রিপোর্ট
৮ জুলাই ২০২১, ৮:১১ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব রাফিউল রাব্বির সন্তান তানভীর মহম্মুদ ত্বকীর হত্যার প্রতিবাদ এবং হত্যার ১০০তম মাসে বিচারের দাবিতে-চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ০৮ জুলাই ২০২১ সন্ধা:৭:০০ টায়, সংগঠন কার্যালয়ে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেণ বাসদ বগুড়া জেলা সদস্য, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বগুড়া জেলা সংগঠক রাধা রানী বর্মন, উপস্থিত থেকে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন বাসদ বগুড়া জেলা আহ্বায়ক, এ্যাড.সাইফুল ইসলাম পল্টু, বাসদ জেলা সদস্য দিলরুবা নূরী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বগুড়া জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় বর্মন, চারণ সংগঠক রাকিবুল ইসলাম, নিয়তি সরকার, পূজা প্রামাণিক প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন:- ২০১৩ সালের ৬ মার্চ ত্বকী হত্যার পর থেকে প্রতি মাসের ৮ তারিখ লাশ উদ্ধারের দিনটিকে কেন্দ্র করে বিচারের দাবিতে আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। আজ ১০০ মাস পূর্ণ হচ্ছে। ত্বকী হত্যা ও বিচারহীনতার ১০০ মাস।
৬ মার্চ ২০১৩ বিকেলে সুধীজন পাঠাগারে যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে অপহরণ করা হয়েছিল। এর দুই দিন পর অথার্ৎ ০৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর খালের পাড় থেকে পুলিশ ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় ২৮ মে ২০১৩ উচ্চ আদালতের নির্দেশে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর তদন্তভার গ্রহণ করে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকার সাংবিধান নিশ্চিত করেছে। দেশে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে ১২০দিনের মধ্যে তার অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রায় সাড়ে আট বছরেও ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়নি।
ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে বিশ্বের ১৯টি দেশে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ হয়েছে। এ বিচারের দাবিতে টানা প্রায় সাড়ে আট বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ২০১৩ সালের ৮ মার্চ ত্বকীর লাশ পাওয়ার তারিখটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ১০০ মাস ধরে টানা প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচির পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। রাষ্ট্রে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাষ্ট্রে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার কারণে আমরা মনে করতে বাধ্য হচ্ছি যে সরকার তার রাজনৈতিক প্রয়োজনে কোনো কোনো বিচার সম্পন্ন করলেও রাজনৈতিক প্রয়োজনেই বহু অপরাধের বিচারকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখে। সরকারের এই অবস্থানের কারণে আজ বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের অবিশ্বাস ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাষ্ট্রের শক্তিশালী স্তম্ভ বিচার ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। বিচারব্যবস্থা ও সুশাসন ধ্বংস হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর গণতান্ত্রিক চরিত্র অবশিষ্ট থাকে না; রাষ্ট্র দেউলিয়া হয়ে পড়ে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে আমরা দেউলিয়া দেখতে চাই না। আর চাই না বলেই আর বিলম্ব না করে ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র দ্রুত আদালতে জমা দিয়ে সব ঘাতকের ও হত্যার নির্দেশদাতার বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।