ডেস্ক রিপোর্ট
১৬ মে ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১১ জুন ২০২৬। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো– এই তিন দেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে এবারের বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ঘিরে ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। তাই দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা। অনেকেই ইতোমধ্যে নিজেদের বাড়ির ছাদ কিংবা রাস্তায় প্রিয় দলের পতাকা টানাতে শুরু করেছেন। এই যখন অবস্থা, তখন প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের জার্সি যোগ করেছে বিশ্বকাপে নতুন মাত্রা।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি জার্সি বিক্রির মার্কেট গুলিস্তান। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে অস্থায়ীভাবে পসরা নিয়ে বসেন বিক্রেতারা। ক্রিকেট পাগল জাতি হলেও ফুটবল বিশ্বকাপ এলে সবখানেই যেন চলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ। সেই দ্বৈরথে ভিন্ন আবহ তৈরি করে নিজ দলের জার্সি।
শনিবার (১৬ মে) গুলিস্তানের স্পোর্টস মার্কেট থেকে শুরু করে অলিগলি সবখানেই দেখা মিলল জার্সি বেচা-কেনা। বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্রেতাদের আগ্রহের শীর্ষে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার জার্সি। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সি। এছাড়া বিক্রির তালিকায় রয়েছে– পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স ও জার্মানির জার্সিও। সমর্থকেরা এসব জার্সি নিজেদের গায়ে জড়িয়ে প্রিয় দলটির প্রতি নিজেদের সমর্থনের জানান দিচ্ছেন।
গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেটের দোতলায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জার্সি ব্যবসা করে আসছেন মো. শফিকুর রহমান। ঢাকা পোস্টকে তিনি জানালেন, বিশ্বকাপ এলে তাদের বেচা-কেনা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া সারা বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ও ক্লাব ফুটবলের জার্সি বিক্রি করেই তাদের চলতে হয়। তবে বিশ্বকাপে বদলে যায় সে চিত্র। প্রতিদিনই অনেক অর্ডার আসে। এ ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানে পাইকারি দামে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০০ টাকা করে প্রতি পিস জার্সি পাওয়া যায়। চাহিদার ভিত্তিতে জার্সির দাম প্রতি সপ্তাহে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান তিনি। ৯০০ টাকা করে জার্সি চায়না থেকে আমদানি করা, যেটা গেল সপ্তাহে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হত। বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে জার্সির দামও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি। জার্সির পাশাপাশি ফুটবল ও বুট জুতারও বিক্রি বেড়েছে বলে জানান এ ব্যবসায়ী।
আরেক ব্যবসায়ী শাওন বলেন, গত মাস থেকেই জার্সির অনেক চাহিদা। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সারাদেশেই তার দোকানের জার্সি যায় বলে জানান তিনি। পাইকারি ৬ পিস ও ১২ পিসের বান্ডেল আকারে জার্সি বিক্রি হয় তার দোকানে। দেশি জার্সির পাইকারি প্রতি পিস ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় আমদানি করা প্লেয়ার ভার্সন ১০০০থেকে ১২০০ টাকা করে বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।
মার্কেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে ফুটপাতে এলেও জার্সির শত শত ভাসমান দোকান। তাদের কেউই সারা বছর ফুটপাতে জার্সি বিক্রি করেন না। তবে বিশ্বকাপ উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে তারাও নাম লিখিয়েছেন মৌসুমি জার্সি বিক্রেতা হিসেবে। আর জার্সির অনেক বড় একটি অংশের জোগান দেন এই অস্থায়ী জার্সি বিক্রেতারা।
ফুটপাতে জার্সি বিক্রি করছেন নাইমুল ইসলাম। সদ্য কৈশোরে অবতীর্ণ এই মৌসুমি বিক্রেতা ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিশ্বকাপ আসন্ন দেখে দোকানে জার্সি উঠিয়েছেন। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সারাবছর বিভিন্ন ধরনের কাপড় বিক্রি করেন তিনি। তার কাছে সব দেশীয় জার্সি। ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের জার্সি পাওয়া যায় তার কাছে। নিজে আর্জেন্টিনার জার্সি পরিধান করলেও এই বিক্রেতা জানান তার কাছে ব্রাজিলের জার্সি বেশি আছে। এই দুই দল ছাড়া পর্তুগাল ও ফ্রান্সের জার্সির চাহিদা বেশি বলে জানান নাইমুল।
আগের তুলনায় বিক্রি অনেক কম বলে হতাশা প্রকাশ করেন গুলিস্তানের কোয়ালিটি স্পোর্টস এর মালিক আব্দুল লতিফ। প্রায় ৩০ বছর ধরে বেশ বড়সড় জায়গার দোকান দিয়ে খেলা সামগ্রীর ব্যবসা তার। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগের তুলনায় বিক্রি অনেক কমে গেছে। গেল বছর থেকে লসে চলছে তার ব্যবসা। জার্সি কিনে ছেলেপেলে খেলবে কোথায়, জায়গারও তো সংকট। আর এখনকার দিনে খেলাধুলা করেই বা কতজন।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন করে জার্সি আনিয়েছেন তিনি। দেশীয় জার্সি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে আর আমদানি করা জার্সি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করছেন। সামনে হয়তো ব্যাবসা গুটিয়ে আনবেন বলেও জানান তিনি।
গুলিস্তানে জার্সি কিনতে আসা শাহরিয়ার পারভেজ ইমন বলেন, আমার পছন্দের দল আর্জেন্টিনা। আর ছেলের পছন্দ ব্রাজিল। দুইজনের জন্য দুই দেশের জার্সি কিনতে গুলিস্তানে এসেছি, সাশ্রয়ী মূল্যে কেনার জন্যই এখানে আসা।