ডেস্ক রিপোর্ট

১১ মে ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ

শ্রমজীবীদের অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান

আপডেট টাইম : মে ১১, ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: শ্রমজীবী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, মর্যাদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)।

রোববার ( ১০ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিলস চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ভূঞাঁর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তব্য প্রদান করেন বিশিষ্ট লেখক, প্রাবন্ধিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আবুল মোমেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিলস মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিলস নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ।

আবুল মোমেন বলেন, লুটপাটের মাধ্যমে বিত্তবানের জন্যে ঊর্ধ্বমুখী শ্রেণি-উত্তরণের পথ কেবল সুগমই হয়নি, এর যাত্রীও উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে। অর্থনীতির বিকাশ হলেও সমাজে মানবিক বিকাশ আশানুরূপ হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে মূল্যবোধে যে ধস নেমেছে সে বিষয়ে হুঁশিয়ার হওয়া জরুরি।

বিলস মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের কর্মীদের কাছে ‘মে-দিবস’ শুধু আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়, বরং এটি তাদের সংগ্রাম, ঐক্য ও অধিকার আদায়ের অনুপ্রেরণার প্রতীক।

পহেলা মে ঘিরে যে শ্রমিক ধর্মঘটের সূচনা হয়েছিল, তা সে সময় শ্রমিকদের মধ্যে নতুন চেতনা ও ঐক্যের জন্ম দেয় এবং পুরো আমেরিকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে বলেও জানান তিনি।

মে দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, ভিন্ন ভাষা-ভাষী, ভিন্ন পেশা-শ্রেণির মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রামে নেমেছিলেন। কোনো আন্দোলন সফল করতে হলে এবং ন্যায্য অধিকার আদায় করতে হলে ঐক্যের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মে দিবস আমাদের সাহস, সংহতি ও ন্যায্য দাবিতে দৃঢ় থাকার শিক্ষা দিক, এটাই এই দিনের মূল প্রেরণা হওয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষের অবদান ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কার্যকর অংশগ্রহণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। মে দিবসের চেতনা বাস্তবায়নে শ্রমিকের মর্যাদা, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং বৈষম্যহীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা, অটোমেশন, বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তন এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের সম্প্রসারণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সময়োপযোগী শ্রমনীতি, শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, কার্যকর শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সংলাপ অপরিহার্য।

শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র কখনো পূর্ণতা পায় না। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণ-আন্দোলনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষের অবদান থাকলেও পরবর্তীকালে তাদের প্রত্যাশা ও অধিকারের বিষয়গুলো প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায় বলে তারা দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, শ্রম অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-আহ্বায়ক মেজবাহউদ্দীন আহমেদ, আই-সোস্যালের চেয়ারপারসন, অর্থনীতিবিদ ড. অনন্য রায়হান, লেখক ও গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল, আইএলওর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিরান রামজুথান প্রমুখ।

শেয়ার করুন