ডেস্ক রিপোর্ট
৩১ মে ২০২৪, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: জ্ঞান-বিজ্ঞান মনুষ্যত্ব ধ্বংসের জাতীয় শিক্ষাক্রম -২০২১ বাতিলের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জোন – ৫ এর আয়োজনে আজ ৩১ মে, ২০২৪ আঞ্চলিক শিক্ষা কনভেনশন ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪ টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিনি কনফারেন্স হলে আঞ্চলিক কনভেনশনটি শুরু হয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক গৌতম কর এর সভাপতিত্বে ও সদস্য আরিফুল হাসানের সঞ্চালনায় আয়োজনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক কাজী শেখ ফরিদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, বাকৃবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় রায়, আনন্দ মোহন কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রোমান ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক খন্দকার মোজাম্মেল হোসেন লাকাদ।
কনভেনশনে বক্তারা বলেন, “সরকার অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, গায়ের জোরে যে শিক্ষাক্রম আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে তার ফলাফল ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি। অভিভাবক সহ সর্বস্তরের মানুষ এর বিরোধিতা করছে। রাস্তায় পর্যন্ত নেমেছিল অভিভাবকেরা। সরকার এসবের কোনো তোয়াক্কা করছে না।”
বক্তারা আরও বলেন,” আজ এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে স্কুল, কলেজে পূর্বতন শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে যা কিছু লেখাপড়া হতো আর সেটুকুও হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। এসাইনমেন্ট ভিত্তিক কাজের প্রাধান্য থাকায় শিক্ষাব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। গাইড, কোচিং ব্যবসা তো কমেনি উলটো বেড়েছে। এই শিক্ষাক্রম শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য চূড়ান্ত মাত্রায় নিয়ে যাবে। সাধারণ মানুষের সন্তানেরা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট শুরু থেকেই শিক্ষাধ্বংসের এই শিক্ষাক্রমের বিরোধিতা ও বাতিলের দাবি করে আসছে। আমরা মনে করি সরকার শিক্ষার্থীদের নামমাত্র কিছু কারিগরি শিক্ষা দিয়ে একদল দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে চায়। সরকার এমন প্রজন্ম তৈরি করতে চায় যারা কোন প্রশ্ন করতে শিখবে না, চিন্তা করতে শিখবে না। তাই সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে মূল সমস্যাগুলোকে আড়াল করে পুরো শিক্ষাক্রমটাকেই পাল্টে দিয়ে গালভরা গল্প শোনাচ্ছে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সারাদেশে স্বাক্ষর সংগ্রহ করছে এই শিক্ষাক্রম বাতিলের দাবিতে। আমরা সাড়া পাচ্ছি। মানুষ এই শিক্ষাক্রম চায় না। এই শিক্ষাক্রম বাতিলের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা অবিলম্বে এই শিক্ষাক্রম বাতিল চাই।”