ডেস্ক রিপোর্ট
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১:৩১ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আজ শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায়,সিলেটে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন সিলেট এর আহবায়ক, জাসদ সভাপতি লোকমান আহমদ এর সভাপতিত্বে ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন সিলেট এর সদস্য সচিব, বাসদ সিলেট জেলা আহ্বায়ক আবু জাফর এর পরিচালনায় সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বাসদের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহীন রহমান, জাসদ’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মহসিন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরো সদস্য কামরুল আহসান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, আদিবাসী ফোরাম কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এন্ড্রু সোলেমার প্রমূখ ।
এছাড়াও স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিবি জেলা সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন সিলেট এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও ওয়ার্কার্স পার্টি জেলা সভাপতি কমরেড সিকান্দর আলী, সিলেট জেলা বাসদ (মার্কসবাদী) আহ্বায়ক উজ্জল রায়, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ জেলা সভাপতি সিরাজ আহমেদ, জাসদ সিলেট মহানগর সাধারণ সম্পাদক গিয়াস আহমেদ, বাংলাদেশ জাসদের জেলা সহ সভাপতি লাল মোহন দেব, ঐক্য ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস বাবুল, গণতন্ত্রী পার্টি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গুলজার আহমেদ, সাম্যবাদী দলের সম্পাদক ব্রজ গোপাল, সাম্যবাদী আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক সুশান্ত সিনহা সুমন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের জেলা সভাপতি গৌরাঙ্গ পাত্র, মনিপুরী কবি লেখক এ কে শেরাম, বাসদ সিলেট জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পাল।
সিলেটের সংহতি সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে বহু জাতি বহু ভাষার মানুষজন বসবাস করে। এটিই হচ্ছে একটি দেশের সৌন্দর্য। আর এই সকল জাতির, ধর্মের, ভষার মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এমন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে যেন কোন একটি ধর্মের কিংবা কোন জাতীর জন্য না হয়। সকল জাতির সকল ভাষার মানুষের জন্য হবে রাষ্ট্র।
বক্তারা বলেন, আমাদের আন্দোলন করে চুক্তি করতে হয়, আবার আন্দোলন করে চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হয়। এই মুক্তিযুদ্ধে সকলের রক্ত জড়িয়ে আছে, চাকমা, গারো, খাসি, মারমা, চা শ্রমিক সবার রক্ত জড়িয়ে আছে, কিন্তু স্বাধীনতার পর কী হলো? আদিবাসীদের প্রমোশন দেওয়া হলো! আদিবাসী থেকে সরাসরি বাঙালি! একটা জাতি কি আরেকটি জাতিতে কখনও রূপান্তরিত হতে পারে?
বক্তারা বলেন, বৈচিত্রের মধ্যে যে দেশ গড়ে উঠেছিল তা স্বাধীনতার পর বাঙ্গালির দেশ! এই লড়াইটা গনতান্ত্রিক লড়াই, সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
বক্তারা বলেন, বহু অত্যাচার আর নিষ্পেষনের অবসান ঘটবে বলে শান্তি চুক্তি করা হলো! কিন্তু তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হলো না।
বক্তারা বলেন, এল আর ডি, জাতিসংঘের তথ্য মতে, এই প্রকৃতি এবং জীববৈচিত্র্যর ৮০% রক্ষা করে আদিবাসীরা। একটি তথ্যই বলে আদিবাসীদের গুরুত্ব। জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবেনা যদি আপনারা আপনাদের ওয়াদা না রাখেন।
বক্তারা বলেন, আমরা স্পষ্টতই দেখতে পাই, স্বাধীনতার ৫২ বছরে যারাই ক্ষমতায় এসেছেন তারা কোন না কোন ভাবে চুক্তি ভঙ্গ করেছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে গড়ে ওঠা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন’–এর আয়োজনে এটি হবে চতুর্থ বিভাগীয় সমাবেশ। এর আগে চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহে তিনটি বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংহতি সমাবেশের শুরুতে উদীচী জেলা সংসদ ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবেন।