ডেস্ক রিপোর্ট
২৮ মে ২০২১, ৫:১০ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: করোনায় কর্মহীন শ্রমিকদের খাদ্য, চিকিৎসা, অর্থ সহায়তা এবং শ্রমিকদের রেশন, স্বল্পমূল্যে আবাসন ও সার্বজনীন পেনশন চালু করতে বাজেটে করোনায় কর্মহীন শ্রমিকদের খাদ্য, চিকিৎসা, অর্থ সহায়তার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ এবং শ্রমিকদের জন্য আর্মি রেটে রেশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা, স্বল্পমূল্যে আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত ও সার্বজনীন পেনশন চালু করতে বাজেটে নিয়মিত বরাদ্দ প্রদানের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এর সমাবেশ।
আজ শুক্রবার (২৮ মে ২০২১) সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং একই সময়ে সারাদেশে জেলা, উপজেলা, শিল্পাঞ্চলে “সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট” এর উদ্যোগে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয়।
সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল এর সঞ্চালনায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, নির্বাহী সদস্য আফজাল হোসেন, ঢাকা নগর কমিটি ও বোম্বে সুইটস কোম্পানি লি: শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রতন মিয়া, বাংলাদেশ ট্যুরিজম এন্ড হোটেল ওয়ার্কার্স-এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের আহবায়ক রাশেদুর রহমান রাশেদ প্রমূখ।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনার সংক্রমণে সাধারণ জীবনযাত্রা যখন স্থবির সেই সময়ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা উৎপাদনের চাকা সচল রাখায় করোনা দুর্যোগ কালিন সময়েও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে মাথাপিছু আয় ছিল ১৯০৯ ডলার যা গত দুই বছরে ৩১৮ ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ২২২৭ ডলার হয়েছে। অথচ দেশের সম্পদ বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কারিগর শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পাওয়ার পরিবর্তে কমেছে কমপক্ষে ২০ শতাংশ। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে আয় কমে যাওয়ায় প্রায় ৫২ শতাংশ পরিবার প্রতিদিনের খাদ্য ব্যায়ের পরিমাণ কমিয়েছে। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, করোনায় বাংলাদেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠির সংখ্যা যাদের দৈনিক আয় ১.৯ ডলারের কম তাদের সংখ্যা ১২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২২ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ করোনাকালে দেশের সম্পদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈষম্যের মাত্রা বেড়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কয়েক হাজার মানুষ কোটিপতি হওয়ার বিপরীতে কোটি-কোটি মানুষ দরিদ্র থেকে অতি দরিদ্রে পরিণত হচ্ছে। এই শ্রমজীবী দরিদ্র মানুষেরায় রাষ্ট্রের খরচের অধিকাংশ যোগান দেয়। গতবছর দেশের মোট রাজস্ব আয়ের ৫০ শতাংশের বেশী এসেছে ভ্যাট আর আমদানী শুল্ক থেকে যার দায় চুড়ান্ত ভাবে ভোক্তা অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ট দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের উপর পরে।
নেতৃবৃন্দ, করোনা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমজীবীদের জন্য বিশেষত মোট শ্রম শক্তির ৮৫ শতাংশ পর্যটন, হোটেল- রেষ্টুরেন্ট, নির্মাণ, তাঁত, পাদুকা, কুলি, পরিবহন, হালকাযানবাহন চালকসহ অপ্রাতিষ্ঠানিতক খাতের শ্রমিক এবং বিদেশ প্রত্যাগত শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রিয় উদ্যোগে কর্মসংস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা ও অর্থ সহায়তার জন্য বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ করার পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে শ্রমিকদের জন্য আর্মি রেটে রেশন, শ্রমিকঘন অঞ্চলে চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং সার্বজনীন পেনশন চালু করার দাবি জানিয়ে বলেন, শ্রমিকদের উন্নয়নে ব্যায় করা হলে তা বিনিয়োগে পরিণত হয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ফিরে আসবে। আর মালিকদের কে প্রদত্ত অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে লন্ডন-কানাডা-আমেরিকায় বেগম পাড়া গড়ে উঠবে। বাজেটে অর্থ বরাদ্দের চিত্রই বলে দেবে সরকার দেশের মানব সম্পদের উন্নতি না কি লুটেরা-পাচারকারীদের উৎসাহিত করতে চায়।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল তোপখানা রোড এলাকায় সড়ক প্রদিক্ষণ করে।