ডেস্ক রিপোর্ট
৮ আগস্ট ২০২২, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: গত শনিবার ৬ আগস্ট ভোরে গাজীপুরের তাকওয়া পরিবহনের বাসে করে স্বামী স্ত্রী ভালুকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। চৌরাস্তায় বাকি যাত্রীরা নেমে গেলে স্বামীকে মারধর করে বাস থেকে জোড় করে নামিয়ে দিয়ে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে ঐ বাসের চালক হেল্পারসহ ৫ জন।
সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু এবং সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আজ ৮ আগস্ট ২০২২ সংবাদপত্রে প্রকাশার্থে এক বিবৃতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সারা দেশেই নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তবে গণপরিবহন দিনদিনই নারী নিরাপত্তাহীনতার ভযানক ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে। আগে দেখা যেত রাতে বাসে একা হয়ে গেলে নারী নিপীড়নের শিকার হত, কিন্তু এখন বাস ভর্তি হোক বা স্বামী সাথে হোক, কোন বিবেচনাই কাজ করছে না। সারা দেশেই নারী নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হওয়ার হার খুবই নিম্ন। গণপরিবহনেও সংগঠিত ধর্ষণ নির্যাতনের কোন উল্লেখযোগ্য বিচার বা শাস্তি হয়নি। যে কারণে নির্যাতনকারীরা প্রশ্রয় পাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত আরও ভয়াবহ রূপ ধারন করছে। এক ঘটনা আগের ঘটনার ভয়াবহতা ও বিভৎসতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। একদিকে বিচারহীনতা অন্যদিকে পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা নারীর অবাধ চলাচলকে ব্যহত করছে। সমাজের সর্বত্র নারীকে ভোগের সামগ্রী করে উপস্থাপন করার অশ্লীল প্রতিযোগিতা চলে। ওয়াজ মাহফিলে, বিজ্ঞাপনে, সিনেমায় সর্বত্র নারীকে ভোগ্যপন্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ না করে সেগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে সরকার। একের পর এক ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে কিন্তু এর প্রতিকার করতে সরকারের কোন তৎপরতা নেই।’
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গী বদলানোর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সাংস্কৃতিক রুচি ও মূল্যবোধ এর পরিবর্তন। প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। নারীরা এখন বাইরে অনেক ধরণের কাজ করে। তাই তার জন্য নিরাপদ গণপরিবহন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সেক্ষেত্রে পরিবহনের সাথে যুক্ত শ্রমিক কর্মচারীদের নৈতিক সামাজিক মূল্যবোধ তৈরি ও নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাদের নানা ধরণের কর্মশালা ও প্রশিক্ষনের আওতায় আনতে হবে। আর গণপরিবহনে নারী নির্যাতনের উল্লেখযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
অবিলম্বে নেতৃবৃন্দ উক্ত ঘটনার সাথে যুক্ত নিপীড়নকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।