ডেস্ক রিপোর্ট

১১ মে ২০২১, ৬:১৬ অপরাহ্ণ

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আপাতত গাছ কাটা বন্ধ: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

আপডেট টাইম : মে ১১, ২০২১ ৬:১৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আপাতত গাছ কাটা বন্ধ থাকবে। পরিবেশবিদসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলমান স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মোট ১০০টি গাছ কাটার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি গাছ কাটা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি নিয়ে পরিবেশবিদসহ অন্যান্য সচেতন মহল উদ্বেগ জানিয়েছেন, সেহেতু তাদের এই উদ্বেগকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা পরিবেশবিদসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার ও নগর পরিকল্পনাবিদদের সঙ্গে আলোচনা করবো এবং পরিবেশের ক্ষতি না করে কীভাবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কাজ চলমান রাখা যায় তার উপায় বের করার চেষ্টা করবো।’

‘তবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের স্বার্থে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিসংগ্রামের সঙ্গে সম্পর্কিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সকল ঐতিহাসিক স্থান যথাযোগ্য মর্যাদায় সংরক্ষণ করা হবে’ যোগ করেন আ ক ম মোজাম্মেল।

তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, আধুনিক নগর উপযোগী সবুজের আবহে দৃষ্টিনন্দন ও আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ (৩য় পর্যায়)’ শীর্ষক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, সেখানে পাকিস্তানি শাসনবিরোধী ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রাম ও ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত ভাস্কর্য স্থাপন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য স্থাপন, ইন্দিরা মঞ্চ নির্মাণ, ওয়াটার বডি ও ফাউন্টেন নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ ৫শ’ গাড়ির কার পার্কিং, ৭টি ফুড কিয়স্ক (মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের পৃথক টয়লেট ফ্যাসিলিটিসহ) ও শিশু পার্ক নির্মাণসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, এত বড় এলাকায় এত মানুষের সমাগম হয় তাতে কোনো টয়লেট ফ্যাসিলিটিজ এবং রিফ্রেশমেন্টের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পরিবারসহ দর্শনার্থীরা উদ্যানে যাতে ভ্রমণ করতে পারে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার পাশাপাশি নিরাপদ ও মানসম্পন্ন পরিবেশে কয়েক ঘণ্টা সময় কাটাতে পারে তার সকল ব্যবস্থা এখানে করা হচ্ছে।

আ ক ম মোজাম্মেল বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খাবারের দোকান/ভাতের হোটেল ইত্যাদি বানানোর জন্য গাছ কাটা হচ্ছে মর্মে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা সত্যিই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গৃহীত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যানে ছোট-বড় কিছু সংখ্যক গাছ কর্তন করা হলেও এর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অন্তত ১০ গুণ বেশি গাছ লাগানো হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ১ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী জানান, শাহবাগ থানাকে বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে রমনা কালি মন্দিরের পেছনে এবং ফুলের দোকানগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন