ডেস্ক রিপোর্ট
১১ মার্চ ২০২২, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: ১৪ বছর ধরে দেশে নেই দাবার নতুন গ্র্যান্ডমাস্টার। চরম অবহেলা ও নানারকম নেতিবাচক মানসিকতার জন্যই এমন বেহাল দশা। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি এগিয়ে আসলেও করোনার আঘাতে এলোমেলো সব। দাবাড়ু বা দাবা ফেডারেশনের কেউই নতুন গ্র্যান্ডমাস্টার পাওয়ার ব্যাপারে সহসা আশাবাদী নয়।
১৯৮৭ সালে বাংলাদেশে উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টারের খেতাব পেয়েছিলেন নিয়াজ মোরশেদ। যখন পুরো এশিয়াতেই ছিলো মাত্র চারজন গ্র্যান্ডমাস্টার।
কিন্তু তারপরের গল্পটা দাবার জন্য বেশ হতাশাজনক। বাংলাদেশ থেকে গত ৩৫ বছরে এসেছেন আর মাত্র চার গ্র্যান্ডমাস্টার তাও সবশেষ ২০০৮ সালে। যেখানে পাশের দেশ ভারতে গ্র্যান্ডমাস্টারের সংখ্যা এখন ৬৭জন।
দেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোরশেদ মনে করেন দাবার প্রতি নেতিবাচক মানসিকতা ও অবহেলা না হলে এমন পরিস্থিতি হতো না।
তিনি বলেন, ‘যখন আমি গ্র্যান্ডমাস্টার হলাম তখন দাবাকে নিয়ে কিছুটা চাঞ্চল্য ছিল। কিন্তু কিছুদিন পরে চাঞ্চল্য আস্তে আস্তে কমে গেল। নিউজ থেকেও হারিয়ে গেলাম। আসলে সবকিছু মিলেই দাবার ওপরে খুব নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে’।
স্পন্সর প্রতিষ্ঠানও পাশে পাওয়া যেতনা একসময়। যদিও সময়ের প্রেক্ষাপটে এখন বদলেছে পরিবেশ। গত দুই বছরে অসম্ভব সাড়া পড়েছে দাবায়। নতুন গ্র্যান্ডমাস্টার অল্প সময়ে পাওয়া না গেলেও একটা সময়ে অনেক বেশি গ্র্যান্ডমাস্টার আসবে মনে করছেন নিয়াজ মোরশেদ।
এদিকে, চলমান দাবা লিগে বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও জর্জিয়ার মোট ৭২ জন দাবাড়ু অংশ নিয়েছে। দেশের তরুণ দাবাড়ুদের জন্য অনেক বড় সুযোগ মনে করছে ফেডারেশন। কর্মকর্তাদের দাবি, পাইপলাইনে অনেক বেশি ভালোমানের দাবাড়ু পাওয়া যাবে এরকম আসর থেকে।
দাবা ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মল্লিক বলেন, ‘আমরা এখন চেষ্টা করছি দাবাকে সকল পর্যায়ে জনপ্রিয় করে তুলতে এবং দেশের সর্বস্তরে দাবা খেলাকে ছড়িয়ে দিতে। সেক্ষেত্রে আমাদের পাইপলাইনটা মজবুত করতে হবে। তৈরি করতে হবে নতুন দাবাড়ু।’
কর্মকর্তাদের চাহিদা সারাদেশ থেকে অন্তত দুই হাজারের বেশি দাবাড়ু তৈরি করা। একই সঙ্গে বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।