ডেস্ক রিপোর্ট
২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
আর রাজী : কতো দুর্যোগ দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে নিত্যদিন পার করি আমরা। কিন্তু মাঝে মাঝে এমন কিছু এক্কেবারে মুখোমুখি এসে দাঁড়ায় যখন তা এড়ানো কঠিন হয়ে যায়। তানজিনা সুলতানা। অতিসম্প্রতি সাবেক হওয়া ছাত্রী আমাদের, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চবির। কুতুবদিয়া বাড়ি। বাবা ছয় মাস আগে মারা গেছেন। ভাইবোন কেউ থাকেন না কুতুবদিয়ায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে মায়ের কাছে গ্রামে ফিরে গেছেন, চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে। কিন্তু এরই মধ্যে তাদের বাস্তুভিটা জায়গা-জমি দখল করে নেওয়ার আয়োজন করেছেন তাদেরই স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিকদার। তানজিনা লিখেছেন তার ফেসবুক পোস্টে। ঘটনাগুলো একেবারে সিনেমার গল্পের মতো।
তানজিনা যা লিখেছেন, আর আমাকে সময়ে সময়ে যা জানিয়েছেন, তাতে ঘটনাগুলো অনেকটা এরকম: মাসখানেক আগে চেয়ারম্যানের ষড়যন্ত্র মাথায় নিয়ে তানজিনা ওয়ারিশান সনদ আনতে গেলে, তার সঙ্গীকে মারধর করে ধরে নিয়ে যান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সাহেব। এই ঘটনা লিখিতভাবে থানায় জানানোর জন্য স্থানীয় বাজারে যখন কম্পিউটার প্রিন্ট নিতে যায় তানজিনা, সেখান আগে থেকেই হাজির ছিলেন চেয়ারম্যান। তাকে দেখে ডেকে নিয়ে তারই গলার ওড়না পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে একটা কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে শ্বাস বন্ধ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান তানজিনা। সে অবস্থায় আরও লোকজন মারপিট করে তাকে। অনেক অনেক মানুষ উপস্থিত হয়। খবর পেয়ে পুলিশও আসে। পুলিশ নাকি চেয়ারম্যানেরই লোক। তাকে হাসপাতালে নিতে দেয়নি। বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। মেয়েটি হাসপাতালে যেতে যেন না পারে তার জন্য পাহারা বসিয়ে রেখেছে। তানজিনার মরণ দশা। হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। রাতের অন্ধকারে ছদ্মবেশে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। হাসপাতালের রেজিস্টারে লেখা আছে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যাচেষ্টা, শরীরে বিভিন্ন আঘাত জখমের কথা। কিন্তু সনদ সেভাবে মেলেনি। পরিস্থিতি খারাপ হলে রাতেই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিতে হয় তাকে।
এরপর মামলা করতে চাইলে মামলা নেয়নি স্থানীয় পুলিশ। আপোস করার জন্য চাপ দিয়েছে উল্টো। লড়াকু তানজিনা স্থানীয় আদালতে গিয়েছেন। ৩০৭ ধারায় মামলা নিয়েছে আদালত। শুনানি দোসরা ফেব্রুয়ারি। এরই মধ্যে ওই চেয়ারম্যানও মামলা করেছে তানজিনার বিরুদ্ধে। তার ত্রিশ-চল্লিশ জন লোককে একাই নাকি পিটিয়েছেন তানিয়া। কিন্তু পরিস্থিতি এখন ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। সারাক্ষণ নানানভাবে হুমকি আসছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেন যেতে বাধ্য হয় তার নানান কৌশল তিনি প্রয়োগ করে চলেছেন। চেয়ারম্যান নাকি এভাবেই অসহায়ের জায়গা-জমি দখল করে নেন। স্থানীয় পুলিশ কোনো সহযোগিতাই নাকি করে না। পুলিশ বরং নিজেদের অসহায়ত্বের কথা বলে কেবলই চেয়ারম্যানের সঙ্গে আপোস করার তাগাদা দেয়। ২৯ জানুয়ারি রাতে আবারও কথা হলো তানজিনার সঙ্গে। জানতে চায়, তার জীবন বাঁচাতে, বাবার রেখে যাওয়া ভিটেবাড়ি বাঁচাতে কিছু কি করার আছে আমার? আমি কী করতে পারি? আমার কিছু করার ক্ষমতা কোথায়? কিন্তু আমি জানি, আমার অনেক বন্ধু-বান্ধব, ছাত্র-ছাত্রী আছেন যারা এই পিতৃহীন অসহায় মেয়েটিকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে সহায়তা করতে পারেন। প্লিজ, আপনারা তানজিনার জন্য কিছু একটা করুন। দানবের হাত থেকে মেয়েটিকে বাঁচান।
লেখক : আর রাজী
সহকারী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্বাবদ্যালয়