ডেস্ক রিপোর্ট
১৪ নভেম্বর ২০২১, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক:: রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার রায়ে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের পর্যবেক্ষণ ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) ও সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ফৌজদারি অপরাধে মামলা কখনো তামাদি হয় না।
বিচারক কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, একজন বিজ্ঞ বিচারক ওপেন কোর্টে রায় দেওয়ার সময় তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছেন- ৭২ ঘণ্টা পরে ধর্ষণ মামলা যদি কেউ করতে আসে, তাহলে সে মামলাটা গ্রহণ না করতে। এটাই হচ্ছে আপত্তির জায়গা। কোনো ফৌজদারি অপরাধে মামলা করার ব্যাপারে তামাদি হয় না।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরে মামলা হয়নি। ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর এই মামলার প্রথম এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) হয় ২১ বছর পরে। তিনি (বিচারক) সেই ক্ষেত্রে বলেছেন, ৭২ ঘণ্টা পরে মামলা নেওয়া যাবে না।
আনিসুল হক বলেন, ‘বিজ্ঞ বিচারক যে বক্তব্য দিয়েছেন, সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমাদের যে মৌলিক অধিকার সেটার পরিপন্থী।’
তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি অপরাধে মামলা কখনো তামাদি হয় না এবং সংবিধান অনুযায়ী যে মৌলিক অধিকার- এই দুইটাই তিনি (বিচারক) ভায়োলেট (লঙ্ঘন) করেছেন।
‘তিনি যে কথাটা বলেছেন, সেটার একটা ইমপ্লিকেশন (প্রভাব) আছে, কনসিকোয়েন্স (পরিণতি) আছে। সেই কারণে আজ বিচার বিভাগের যিনি অভিভাবক (প্রধান বিচারপতি), তাকে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে’ যোগ করেন আইনমন্ত্রী।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারকে বিচারিক কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায়ে দেওয়া পর্যবেক্ষণ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের পর তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
গত ১১ নভেম্বর রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায়ে ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর পুলিশকে মামলা না নিতে পর্যবেক্ষণ দেন বিচারক কামরুন্নাহার।
রায়ে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদের খালাস দেন।
খালাস পাওয়া অপর চারজন হলেন- সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিম, সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন।