ডেস্ক রিপোর্ট

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ

সিআরবি ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ঢাকায় সংহতি সমাবেশ

আপডেট টাইম : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ৩:৫৯ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক:: শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ও চট্টগ্রামের ফুসফুস সিআরবি ধ্বংসের চক্রান্ত রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ইউনাইটেড গ্রুপের সাথে রেলওয়ের হাসপাতাল নির্মাণ চুক্তি বাতিল করার দাবিতে আজ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট প্লাস্টিক সার্জন ডাঃ বিজয় কৃষ্ণ দাস।

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সিআরবি রক্ষা মঞ্চ চট্টগ্রাম এর সমন্বয়কারি, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রের পরিচালক ডাঃ মাহফুজুর রহমান, বাম গণতান্ত্রিক জোট এর কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ নেতা কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম, রেলওয়ে শ্রমিক নেতা রেজানুর রহমান খান, বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ মঞ্জুর, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ইনচার্জ নিখিল দাস, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, বাসদ (মার্কসবাদী) ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারি ফখরুদ্দিন কবির আতিক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সভাপতি আল কাদেরী জয়, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত।

সংহতি সভা পরিচালনা করেন রেলপরিবারের সন্তান জনাব মোঃ জসীম উদ্দিন।

সংহতি সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব খালেকুজ্জামান লিপন, জনাব মহিন উদ্দিন, জানাবা রাজিয়া সুলতানা দীপা, জনাব জাহেদ চৌধুরী মিঠু, এম সাহাদাৎ নবী খোকা, সাইদুল হক খন্দকার, সৈয়দা পারভীন আক্তার প্রমুখ।

সংহতি সমাবেশে বক্তারা বলেন, শতবছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ও চট্টগ্রামের ফুসফুস বলে খ্যাত সিআরবি এলাকা ধ্বংস করে বাণিজ্যিক বেসরকারি হাসপাতাল নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সিআরবি আসাম বেংগল রেলওয়ের প্রধান কার্যালয়, ১৯৭১ সালের চাকসুর জিএসসহ ১০ জন শহীদের কবরস্থান, নববর্ষসহ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু, চট্টগ্রাম মহানগরীর মানুষের শ্বাস নেওয়ার উম্মুক্ত স্থান। প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিআরবিতে পিপিপির নামে অত্যন্ত গোপনীয় কায়দায় ৫০/৬০ কোটি টাকার বিনিময়ে রেলওয়ে হাসপাতালসহ ৬০০ শতক রেলভূমি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড গ্রুপকে লীজ দেয়ার মাধ্যমে ধ্বংস করার আয়োজন চলছে। লীজের চুক্তিতে রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা দেখিয়ে ৫০০ শয্যার হাসাপাতাল, ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ, ৫০ আসনের নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ স্বাস্থ্যখাত সর্ম্পকিত আরো প্রতিষ্ঠান গড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখানে একটি হেলিপ্যাড নির্মাণের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। এইভাবে রেলওয়ে হাসপাতালটিকে ননহ্যারিটেজ এলাকা দেখিয়ে পুরো রেলের জায়গাকে আত্মসাৎ করার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।

বক্তাগণ বলেন, আমরা ইউনাইটেডসহ যে কোন হাসপাতাল নির্মাণের পক্ষে কিন্তু সিআরবি ধ্বংস করে ঐ স্থানে নয়।

নেতৃবৃন্দ শত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ও চট্টগ্রামের ফুসফুস সিআরবি রক্ষায় সকল মুক্তিযোদ্ধা, রেলকর্মচারি, চট্টগ্রামবাসি, ছাত্র, শ্রমিক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন