ডেস্ক রিপোর্ট
১৭ জুলাই ২০২৫, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ আজ ১৭ জুলাই ২০২৫ সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে গতকাল গোপালগঞ্জে এনসিপি’র সমাবেশে ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের ন্যাক্কারজনক হামলা, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও গাড়ী ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সময়মতো ব্যবস্থা না নিয়ে পরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং গুলি করে ৪ জনকে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব জনগণের জান-মাল ও সভা-সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এনসিপি’র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত জানানোর পরই তারা গোপালগঞ্জে যায়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা আমরা যা দেখলাম তা খুবই উদ্বেগজনক। বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্বৈরতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী সরকার পদত্যাগ ও দেশ ত্যাগ করার পর জনগণ আশা করেছিল জান-মাল ও সভা সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, কিন্তু তা হয়নি। এর আগেও অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন জায়গায় মব সৃস্টি করে জনগণের রাজনৈতিক অধিকারকে খর্ব করা হয়েছে, ‘মুজিববাদের আতুর ঘর’ বলে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙা হয়েছে, সেখানে সেনা সদস্যদের ঠায় নীরবে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক স্থাপনা ভাঙাসহ নানা অসংবেদনশীল কাজ করা হয়েছে কিন্তু সরকার ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত রাজনৈতিক মহল এতে নির্বিকার থেকেছে কিংবা মদদ যুগিয়েছে। পূর্বের মব দমনে এবং মবসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক মব সন্ত্রাস চলছে। এনসিপি’র সমাবেশে হামলা তারই ধারাবাহিকতা। গোপালগঞ্জের ঘটনার দায় সরকার কোনমতেই এড়াতে পারেনা।
বিবৃতিতে ফিরোজ আরও বলেন, সহিংসতা দমনে ল্যাথাল উইপন বা জীবনঘাতী মারণাস্ত্র ব্যবহার করা নিয়ে গত জুলাই আন্দোলনে তীব্র আপত্তি ও প্রতিবাদ জনপরিসর থেকে জানানো হয়েছিল, এর তীব্র সমালোচনাও হয়েছিল। অথচ অভ্যুত্থানের পরই আশুলিয়ায় গুলি করে শ্রমিক হত্যা এবং গতকাল আমরা দেখলাম গোপালগঞ্জে গুলি করে ৪ জন মানুষকে হত্যা করা হলো। এনসিপি’র এই সমাবেশ নিয়ে আগে থেকেই উৎকণ্ঠা ছিল, তাই সেই সমাবেশের নিরাপত্তা দিতে পর্যাপ্ত আইনি প্রস্ততি এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নিয়ে পরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে গিয়ে এভাবে মানুষ হত্যা করা আমাদেরকে বিগত রেজিমের ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনকেই মনে করিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, রমজান কাজী নামে একজনকে সুস্থ অবস্থায় ধরে নিয়ে ১০ মিনিট পর তাকে গুলি করে হত্যা করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীর বীভৎসতার আরও নানা ছবি প্রকাশিত হয়েছে। অবিলম্বে এনসিপি’র সমাবেশে হামলা, আইন-শৃংখলা বাহিনীর গুলিতে ৪ জনকে হত্যা, প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের আহত হওয়ার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ও দায়ীদের বিচার দাবি করা হয় বিবৃতিতে। বিবৃতিতে বাসদের সাধারণ সম্পাদক আরও প্রশ্ন উত্থাপন করেন, সারাদেশব্যাপী এনসিপির শান্তিপূর্ণ জুলাই পদযাত্রা কেন হঠাৎ গোপালগঞ্জে গিয়ে যুদ্ধংদেহী ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ হয়ে গেল? এদের দেশি বিদেশি নানা পৃষ্ঠপোষকদের মদদে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার বাড়ি ভাঙার স্মৃতি মলিন হতে না হতেই আবার এনসিপি’র কতিপয় নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গোপালগঞ্জের নাম বদলে ফেলা হবে,’ ‘শেখ মুজিবর রহমানের কবর গুড়িয়ে দেয়া হবে’ এবং তাঁকে নিয়ে নানা অশালীন কটুক্তি ইত্যাদি নানা উস্কানিমূলক বক্তব্য ছড়াতে থাকল। এধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য কোন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের কাজ হতে পারে না।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এমন উস্কানি দিয়ে একটা অস্থিতিশীল ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করে কোন অপশক্তি অসৎ রাজনৈতিক ফায়দা তোলা, সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে দেশের জাতীয় স্বার্থ বিরোধী নানা পদক্ষেপ বন্দর লীজ, করিডোর, অস্ত্র কারখানার অনুমতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘নন ডিসক্লোজার’ গোপন চুক্তি থেকে দৃষ্টি ভিন্নখাতে নেয়া এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃস্টি করে নির্বাচন বিলম্বিত করার অপপ্রয়াস কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা জরুরি। বিবৃতিতে তিনি গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টিকারী দেশি-বিদেশি সকল ষড়যন্ত্র চক্রান্ত সম্পর্কে জনগণকে সচেতন থাকার এবং পূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জারী রাখার আহ্বান জানান।