ডেস্ক রিপোর্ট
১৬ জুলাই ২০২৪, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ইডেন কলেজসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি হামলায় আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উস্কানীমূলক বক্তব্যে নির্দেশিত হয়ে এই হামলা সংগঠিত হয়েছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে হামলা ও পত্রিকায় ছবি ছাপা হওয়ার পরও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ ‘কোটা’ সংস্কারের ন্যায্য আন্দোলন দমনে সরকারের এই সন্ত্রাসী পদক্ষেপ ও সন্ত্রাসীদের রুখে দাঁড়াতে সচেতন দেশবাসীর প্রতি আহŸান জানান।
আজ ১৬ জুলাই ২০২৪ কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদর উপর নব্য এনএসএফ ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হামলার প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে আজ সকাল ১১:৩০টায় পুরানা পল্টন মোড়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক কমরেড রুহীন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, কোটা ব্যবস্থার যুক্তিসংগত সংস্কারের দাবি মানার ঘোষণার পরিবর্তে সরকারের উস্কানীমূলক আচরণ ও বক্তব্যে এই সংকট তৈরি হয়েছে। মন্ত্রীদের নির্দেশেই পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা এই হামলা করেছে। হাসপাতালের ইমারজেন্সীতে হামলা, নারীদের ওপর হামলা অতীতের সকল রেকর্ডকে হার মানিয়েছে। যা ফিলিস্তিনের গাজায় হাসপতালে জায়নবাদী ইসরাইলের হামলাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সন্ত্রাসীরা সাধারণ ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে টার্গেট করেই হামলা চালায়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা আর আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে দাড় করানোর এই অপচেষ্টা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুক্তিযুদ্ধ জাতির গর্বিত অর্জন, মুক্তিযোদ্ধারা শ্রেষ্ঠ সন্তান, একে বিতর্কিত করা যাবে না, সরকার মুক্তিযুদ্ধের নামে ব্যবসা করছে এবং সরকারের দুর্নীতি, দুঃশাসন-লুটপাট, অর্থপাচার এর বিরোধীতা করলে এবং ছাত্র-জনতা তাদের অধিকারের দাবি করলে তাদেরকে ‘রাজাকার’ ট্যাগ লাগিয়ে গণআন্দোলন দমন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আজ বগুড়া, ফেনী, মৌলভীবাজার, ঝিনেদা, সিলেট, রংপুরসহ সারাদেশে বাম জোটের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশী হামলার এবং রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের উপর পুলিশ-ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে একজন ছাত্রকে হত্যা ও সারাদেশে সহ¯্রাধিক ছাত্রকে আহত করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এবং ছাত্র হত্যাকারী সন্ত্রাসী পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুÐাদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ গতকাল রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির বাসভবনে অবস্থারত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের উপর ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী ও পুলিশী হামলা ও আহত হওয়ার ঘটনারও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ দমন-পীড়ন-নির্যাতন ও হামলা মামলার পথ পরিহার করে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার বিচার এবং কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় যে ভয়াবহ পরিণতি হবে তার দায় সরকারকে বহন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ সরকারি সন্ত্রাস, দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন উচ্ছেদে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সকল বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তিসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।