ডেস্ক রিপোর্ট
১৪ জুন ২০২৪, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট ও চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড জাহেদুল হক মিলুর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে আজ ১৩ জুন ২০২৪ বিকেল ৫ টায় সেগুনবাগিচাস্থ ভ্যানগার্ড কার্যালয়ে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ও ঢাকা মহানগর ইনচার্য নিখিল দাস, সদস্য জুলফিকার আলী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ওসমান আলী, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, রিক্সা-ভ্যান, ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি খালেকুজ্জামান লিপন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সহ-সভাপতি শাহজাহান কবীর, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের দপ্তর সম্পাদক রুখশানা আফরোজ আশা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কমরেড জাহেদুল হক মিলু পুঁজিবাদী শোষনমূলক ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করে একটি শোষণহীন সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে আজীবন লড়াই করে গেছেন। তিনি স্কুল ছাত্র অবস্থায় ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী স্বাধীন দেশের বুর্জোয়া শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক জনগণের উপর শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই জারি রেখেছিলেন। সেজন্য তাকে তিনবারে প্রায় ৪ বছর জেলে থাকতে হয়েছে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি নিজেকে আমৃত্যু যুক্ত রেখেছেন। শুধু তাই নয়, পুঁজিবাদী-ভোগবাদী সংস্কৃতি ও মৌলবাদী সংস্কৃতির আধিপত্যের কবল থেকে তরুণ-যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য তিনি সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। আজীবন বিপ্লবী কমরেড মিলু ব্যক্তিগতভাবে ধন সম্পদ অর্জনের দিকে না গিয়ে শোষিত নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, কমরেড মিলু যে শোষণমুক্ত সাম্য সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন তা আজও অপুরিত। বর্তমানে দেশে চলছে চরম ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন। বিনা ভোটের সরকার চরম দুর্নীতি, লুণ্ঠনে নিমজ্জিত। দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। রিজার্ভ ১৩ বিলিয়ন ডলারে এসে নেমেছে। ব্যাংকগুলো ফাঁকা হয়ে গেছে। এবারের বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার বিধান রেখে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমেছে, বেড়েছে অনুৎপাদনশীল খাতে। গ্রাম শহরের গরিব মানুষের রেশন, নিত্য পণ্যের দাম কমানোসহ জনগণের দাবির কোন প্রতিফলন বাজেটে নেই। বরঞ্চ জনগণের উপর করের বোঝা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের সাথে সাথে উপজেলা পরিষদগুলোও কোটিপতিদের ক্লাবে পরিনত হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ কমরেড জাহেদুল হক মিলুর সংগ্রামী জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে অনির্বাচিত ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইকে জোরদার করার জন্য দলের নেতা কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সভার শুরুতে বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি ও বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ কমরেড মিলুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।