ডেস্ক রিপোর্ট
২ মার্চ ২০২৪, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: বেইলি রোড বাণিজ্যক কাম আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ এবং নিরাপত্তায় অবহেলার জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবি বাসদের।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ আজ ০১ মার্চ ২০২৪ সংবাদপত্রে দেয়া এক বিবৃতিতে গতকাল রাতে বেইলি রোডের বাণিজ্যিক কাম আবাসিক এলাকায় একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধশতাধিক নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ও নিহত-আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে কমরেড ফিরোজ বলেন, বারে বারে দুর্ঘটনা ঘটে আর নিরীহ মানুষের প্রাণ যায়। কিন্তু সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের কারো কোন টনক নড়ে না। ইতিপূর্বে নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডে ১২০ জন, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িরহাট্টি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জন, ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জন, ২০২১ সালের মগবাজারে অগ্নিকান্ডে ১২ জন নিহত এবং ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল বঙ্গবাজারে অগ্নিকান্ডের ফলে সহস্রাধিক মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন। সেই সব অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিলে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো যেত বলে তিনি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, একেকটি ঘটনার পর লোক দেখানো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় যার রিপোর্ট কখনো আলোর মুখ দেখেনা। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কোথা থেকে, দায়ী কে বা কারা তা প্রকাশ পায় না, এবং কোন দায়ীদের আজ পর্যন্ত শাস্তি হয়নি। আবার কোন তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনা রোধে যদি কোন সুপারিশ করে তাও বাস্তবায়নে সরকার প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নাই। ফলে একের পর এক এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে চলেছে আর সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটছে। এই সমস্ত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রমাণিত হয় রাজউক, সিটি কর্পোরেশনসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা। এছাড়াও অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর এবং দক্ষতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগহীনতাও লক্ষণীয়। তিনি অগ্নিকাণ্ডে নিহত-আহতদের পরিবার ও সর্বস্ব হারানো মানুষের প্রতি সহানুভুতি প্রকাশ করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন, ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করার দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহতদের সুচিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের দাবি জানান।