ডেস্ক রিপোর্ট
১৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: মাঝে ২৮ বছরের ব্যবধান। এর মধ্যেই ঢাকা মহানগরে জলাধারের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ১৯৯৫ সালে যা ছিল সাড়ে ২০ শতাংশ, এখন তা ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। এ সময়ে ফাঁকা জায়গা ও সবুজ এলাকাও কমেছে বড় পরিসরে। বিপরীতে বেড়েছে নির্মিত এলাকার পরিধি। জলাধার, সবুজ ও উন্মুক্ত স্থান সংকুচিত হওয়ার কারণে রাজধানী ঢাকা হারাচ্ছে বাসযোগ্যতা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আজ বুধবার রাজধানীর বাংলামোটরে বিআইপি কার্যালয়ে ‘ড্যাপ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা: বিএডিসি ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক জলাশয় ভরাট প্রসঙ্গে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ওই গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।
গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৯৫ সালে দুই সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় জলাধার ও জলাভূমি ছিল ২০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০০৫ সালে সেটা ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ হয়। ২০১৫ সালে তা আরও কমে ৩ দশমিক ২১ শতাংশে নামে। ২০২৩ সালে ২ দশমিক ৯১ শতাংশে এসে দাঁড়ায়।
একইভাবে ১৯৯৫ সালে সবুজ এলাকা ছিল ২০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। ২০০৫ সালে হয় ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০১৫ সালে হয় ১৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে হয়েছে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ।
১৯৯৫ সালে ফাঁকা জায়গা ছিল ১৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তা ২০২৩ সালে হয়েছে ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ১৯৯৫ সালে নির্মিত এলাকা ছিল ৪৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০২৩ সালে সেটা হয়েছে ৭৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঁচটি জলাধার ভরাটের চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে গাবতলীতে একটি জলাশয় ভরাট করে সেখানে অবকাঠামো তৈরি করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের বর্তমান ভবনটিও জলাশয় ভরাট করে গড়ে তোলা। কুড়িলে রেলওয়ের মালিকানাধীন জলাধার ভরাট করে অবকাঠামো তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে মিলেনিয়াম হোল্ডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ হাতিরঝিলের কিছু অংশ ভরাট করেছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আশকোনায় জলাধার ভরাট করে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, দেশে আইনের শাসন এত দুর্বল যে কেউ আইন মেনে চলার কথা চিন্তা করে না। দেশে আইন মেনে চলার সংস্কৃতি দরকার। তবে যারা আইন মানছে না, তাদের পক্ষে জলাশয় ভরাট ছাড়া আরও অনেক নেতিবাচক কাজ করা সম্ভব।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিএডিসি জলাধার ভরাট করে যে অবকাঠামো তৈরি করছে, সেখানে অর্থায়ন করছে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও ইফাদ। ওখানে যে জলাশয় ছিল, সেটা হয়তো তাদের জানানো হয়নি। এটা জানলে হয়তো তারা এ প্রকল্পে অর্থায়ন করত না। আর জেনেশুনে করে থাকলে দাতা সংস্থাও এই অনিয়মের অংশীদার।
বিআইপির সভাপতি ফজলে রেজা সুমনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিআইপির ফেলো সালমা এ সফি, বাপার সভাপতি ড. নূর মোহাম্মদ তালুকদার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম মর্তুজা প্রমুখ।