ডেস্ক রিপোর্ট
৭ নভেম্বর ২০২৩, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, সিলেট জেলার উদ্যোগে মহান রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে ৭ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেল ৪ টায় র্যালী ও সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ নজরুল একাডেমিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন সিলেট জেলার সমন্বয়ক কমরেড সুশান্ত সিনহা সুমনের সভাপতিত্বে ও সদস্য এডভোকেট মহীতোষ দেব মলয় এর পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী।
বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন সিলেট জেলার সদস্য ও চা শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমরেড হৃদেশ মুদি, গণতান্ত্রিক শ্রমিক আন্দোলন সিলেট জেলার সদস্য মুকুল মাহমুদ, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সিলেট নগর শাখার সভাপতি বিশ্বজিৎ শীল প্রমূখ।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বাসদ সিলেট জেলার আহবায়ক কমরেড আবু জাফর, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ সিলেট জেলার সভাপতি সিরাজ আহমদ, বাসদ সিলেট জেলার সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পাল, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সিলেট নগরের সভাপতি সঞ্জয় কান্ত দাস, প্রাক্তন ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান রাসেল প্রমুখ।
আলোচনা সভা শুরুর পূর্বে একটি সুসজ্জিত লাল পতাকা র্যালী নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট হতে শুরু হয়ে সভাস্হলে এসে মিলিত হয়।
আলোচনা সভায় কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী আজ থেকে ১০৬ বছর আগে সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের গৌরবগাঁথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বে নির্মম ভাবে নির্যাতিত, নিষ্পেষিত গোটা বিশ্বের শ্রমজীবী মেহনতী মানুষ। শুধু মাত্র মুনাফার উদ্দেশ্য পরিচালিত পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদী সমাজ ব্যবস্থায় চরম ভাবে ধ্বংস হচ্ছে মনুষ্যত্ববোধ, মূল্যবোধ। শিশু থেকে শুরু করে নারী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কেউ বাদ যায় না পুঁজিবাদী অর্থনীতির অমানবিক শোষণ থেকে।
তিনি ফিলিস্তিন ইসরায়েল যুদ্ধে নিহত নিরীহ শিশু নারীসহ সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে করে বলেন আমেরিকাসহ সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের মদদে ইসরায়লীরা ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণের উপর পাশবিক নির্যাতন চালাচ্ছে শুধু মাত্র দখলদারিত্ব আধিপত্যকে কেন্দ্র করে, অথচ তা দেখেও পুঁজিবাদী বিশ্ববিবেকের টনক নড়ছেনা! তাদের কাছে এই সমস্যার সমাধানও নেই। তিনি আরও বলেন রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধও সাম্রাজ্যবাদী-পুজিঁবাদীদের বাজার দখলকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে, এতে দুই দেশের আপামর জনগণের কোনো স্বার্থ নেই,অথচ যে কোনো যুদ্ধে সাধারণ মানুষের নিহতের সংখ্যাই থাকে বেশি!
কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী আরও বলেন যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এদেশের আপামর সাধারণ জনগণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হলেও এদেশের মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ আজও পাইনি,দেশের শাসন ভার রয়েছে পুঁজিপতি ধনীকশ্রেণীর হাতেই। আওয়ামীলীগ,বিএনপি,জাতীয় পার্টি এই গুলো মূলত ঐ ধনীকশ্রেণির স্বার্থকে প্রতিনিধিত্ব করছে,স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও এদেশের কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষ পায়নি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক অধিকার। বর্তমান বাজারে প্রত্যেকটি নিত্য পণ্যের এমনই লাগামহীন উর্ধ্বগতি যে মানুষের কেনার স্বাধ্য নেই!
কিন্তু প্রচার মিডিয়া গুলো এমন ভাবে উন্নয়নের বুলি ছড়াচ্ছে যেন সত্যিই দেশের মহা উন্নয়ন হচ্ছে! পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ভোটাধিকারসহ গণতন্ত্রের যতটুকু কথা বলা হয় তাও ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশে এই চিত্র আজ স্পষ্ট, জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কথা বলার সামান্যতম সুযোগটুকুও দেওয়া হচ্ছে না! ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার সিকিউরিটি আইনসহ বিভিন্ন আইন করে তা প্রতিরোধ করা হচ্ছে! সরকারের কোনো রকম সমালোচনাই করা যাচ্ছেনা! দেশে সাম্প্রদায়িক সংহিস্রতা বাড়ছে, ধর্মীয় উগ্রবাদীদের সরকারই মদদ দিচ্ছে, অথচ তারাই আবার তাদের নির্মূলের কথা বলে!
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার একতরফা নিজেদের একটা পুতুল নির্বাচন কমিশন গঠন করে এবারও ভোটারবিহীন ভাবে ক্ষমতা দখল করতে চাইছে। দেশের নির্বাচন পরিস্থিতি কেমন হবে তাও বিদেশি দেশগুলো তৈরি কর দিচ্ছে, বর্তমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ এতটাই বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে! দেশের অন্যতম খাত পোশাক শ্রমিক তাদের ন্যায অধিকার পাচ্ছে না,যখনই প্রতিবাদে নামছে কোনো রকম বিবেচনা ছাড়াই পুলিশসহ সরকারের বাহিনী লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, শ্রমিকদের গুলি করে হত্যা করছে।এই হচ্ছে পুঁজিবাদী দেশের উন্নয়নের নমুনা! কাজেই দেশের মানুষ কে জাগতে হবে, জাগাতে হবে এই সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে, জনগণ একদিকে যেমন নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করবে, এই সংগ্রামকে বেগবান করবে অন্য দিকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার উৎখাতের যে সংগ্রাম তাকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ব্যাক্তি মালিকানাধীন সমাজের স্থলে সামাজিক স্বার্থের যে সমাজ সমাজতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, সেই ব্যবস্থা কয়েম করতে হবে, একমাত্র তবেই সর্বপ্রকার শোষণ থেকে জনগণকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে।