ডেস্ক রিপোর্ট

১৮ অক্টোবর ২০২৩, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে সাত কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ

আপডেট টাইম : অক্টোবর ১৮, ২০২৩ ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা নগর শাখার আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

আজ ১৮ অক্টোবর রোজ বুধবার, সকাল ১১.৩০ টায়, কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নগর কমিটির সভাপতি অনিক কুমার দাস এর সভাপতিত্বে নবীনবরণের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য কমরেড নিখিল দাস,সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন,অর্থ সম্পাদক সুলতানা আক্তার। ঢাকা নগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইনজামামুল হক,সদস্য তোহুরা খাতুন পিয়া। নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন ইডেন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া আজম,ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী আদনান সামি।

আলোচনা শেষে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে নাচ,গান,কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় সভা বক্তারা বলেন, নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনা নিয়ে একদল কচি প্রাণ সামিল হয়েছে উচ্চশিক্ষার এই যাত্রায়। আমরা জানি এই যাত্রাপথে একজন শিক্ষার্থীকে নানা চড়াই-উৎরাই পার হতে হয়। তাকে সম্মুখীন হতে হয় জীবনের নানা কঠিন বাস্তবতার। তবু এও আমরা জানি এই বন্ধুর পথ পার হতে গিয়েই সে পেতে পারে জীবনের এক ভিন্ন অর্থ যা তাকে পুরানো সংকীর্ণ জঞ্জালময় চিন্তাকে ছুঁড়ে ফেলে নতুনের মাঝে অবগাহন করতে শেখায়। নতুন চ্যালেঞ্জকে গ্রহণের সেই সম্ভাবনার রাস্তায় সকলকে স্বাগতম জানাচ্ছে ছাত্র আন্দোলনের বিপ্লবী ও লড়াকু ধারার সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

বিশ্ববিদ্যালয় নতুন জ্ঞান সৃষ্টির কারখানা অবস্থিত সমাজের প্রচলিত প্রতিক্রিয়ার চিন্তার বিরুদ্ধে সব সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়কে লড়াই করতে হয়েছে। জ্ঞানের এমন এক ক্ষমতা যা সত্যর পথকে উদ্ভাসিত করে আর মিথ্যা-অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়, লড়াইয়ে নামায়। তাই তো আমরা দেখি সেই সামন্ত আমল থেকেই শাসকেরা সব সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতার রাশ টেনে ধরতে চেয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে করতেই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিকশিত হতে হয়েছে।

তোমরা যখন এই উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে প্রবেশ করছ সে সময় দেশ এবং এদেশের মানুষ নানামূখী সংকটের মধ্যে দিনাতিপাত করছে।

এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আজ বিপন্ন। জিনিসপত্রের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির ফলে মানুষের জীবন আজ দিশেহারা।সমাজে একদল মানুষ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। শাসকদের পক্ষ থেকে নানা উন্নয়নের ফিরিস্তি দেয়া হচ্ছে কিন্তু উন্নয়নের সেই

সুরম্য প্রাসাদের তলায় চাপা পড়ে যাচ্ছে লাখো মানুষের আর্তনাদ। একই অবস্থা শিক্ষা ক্ষেত্রেও। ক্রমাগত শিক্ষা ব্যয় বাড়ছে। উচ্চশিক্ষা ধনীদের বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ৭টি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জ্ঞান চর্চা, আলোকিত মানুষ তৈরিতে এবং এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এই কলেজগুলোর ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু শাসকদের অবহেলায় আজ সেই কলেজগুলো নানা সংকটে জর্জরিত। নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক ক্লাসরুম, লাইব্রেরী সেমিনার এ বই জার্নাল অপ্রতুল। ফল বিপর্যয়, দ্বৈত প্রশাসনিক জটিলতা, আবাসন, ক্যান্টিন, পরিবহনসহ বিভিন্ন সংকটে ভুগছে শিক্ষার্থীরা। তার উপরে কলেজগুলোতে আছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের দখলদারীত্ব ও সন্ত্রাসী তৎপরতা।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এদেশের শিক্ষা আন্দোলনের এক লড়াকু সংগঠনের নাম। এদেশের শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয়। সেই জনসাধারণের প্রতি দায় থেকেই সমাজের এই অসাম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর এই সংগঠন। একই সাথে শিক্ষাকে সংকুচিত করার শাসকদের নানা নীল নকশার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অগ্রণী সংগঠন ছাত্র ফ্রন্ট। নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের প্রত্যাশা সেই প্রতিরোধ লড়াইয়ে আপনার হাতও যেন আমাদের শক্তি যোগায়।

শেয়ার করুন