ডেস্ক রিপোর্ট
২৭ মে ২০২৩, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতিকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ‘৮০-তে জনতার মেনন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেনন এ কথা বলেন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক সম্মিলন ও জন্মোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ৮০–তে জনতার মেনন উদ্যাপন জাতীয় কমিটি।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘৮০ বছরে পৌঁছে মনে হয়েছে, হয়তো অবসরে যাওয়ার সময় এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশকে ঘিরে ষড়যন্ত্র চলছে প্রতিক্রিয়াশীলদের। ষড়যন্ত্রের সবশেষ বহিঃপ্রকাশ দেখলাম সম্প্রতি বাংলাদেশের ওপর আরোপিত নতুন মার্কিন ভিসা নীতির মধ্য দিয়ে।’
সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে যাত্রা শুরু করে রাজনীতিতে আসেন বলে জানান বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি আর সংস্কৃতি হাত ধরে চলেছে সব সময়। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আজকে সংস্কৃতি রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন, রাজনীতি সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন। এই বিচ্ছিন্নতা দেশে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে সুযোগ করে দিয়েছে। মৌলবাদী গোষ্ঠী আজ আক্রমণ করছে। যাত্রাপালা থেকে শুরু করে আমাদের সব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস প্রায়।’
রাজনীতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে সামনে এগোতে হবে উল্লেখ করে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আশা করব, দেশের সংস্কৃতি তার সব ঐতিহ্য নিয়ে আবার জেগে উঠবে। এ পুনর্জাগরণের মধ্য দিয়ে ক্রমশ আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া রাষ্ট্র ও সমাজ মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা ও পুঁজিবাদের থাবা থেকে উতরে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, রাশেদ খান মেনন মরতে মরতে বেঁচে গেছেন। কিন্তু তাঁর রাজনীতির ধারার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ দেশের মানুষের ভাগ্য বদলের রাজনীতি করেছেন তিনি।
নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, বামপন্থী দলগুলোর সাংস্কৃতিক দিক আগের মতো এখন আর শক্ত নয়। এখনকার রাজনীতিকদের মধ্যে সততার অভাব আছে উল্লেখ করে নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, রাজনীতিতে সৎ মানুষ না এলে রাজনীতি পরিচ্ছন্ন হবে না।
জন্মদিনের সমাপনী অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেননের হাতে নিজের আঁকা একটি ছবি (মেননের) তুলে দেন চিত্রশিল্পী মনিরা বেগম। এ সময় রাশেদ খানের হাতে দুটি বই ও কিছু উপহারসামগ্রী তুলে দেন প্রয়াত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের স্ত্রী সুরাইয়া আলমগীর। উপহার দেওয়া বই দুটি সম্পাদনা করেছিলেন ফকির আলমগীর।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, কবি মুজতবা আহমেদ মুরশেদ, লেখক রতন সিদ্দিকী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশেদ খান মেননের স্ত্রী সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহসহ তাঁর পরিবার ও দলের অন্য সদস্যরা।
প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্যনাট্য, নাটক চলে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ফুল দিয়ে রাশেদ খান মেননকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদ্যাপন কমিটির সদস্য মোস্তফা আলমগীর ও নাসরীন খান।