ডেস্ক রিপোর্ট
১৮ এপ্রিল ২০২৩, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
অধিকার ডেস্ক: আজ সকাল দশটায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সিলেট জেলা সংসদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং এই আইনে কারাবন্দী শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার মুক্তির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি নিবর্তনমূলক কালো আইন। নিরাপত্তার নামে বিরোধী মতকে দমন-পীড়নের উদ্দেশ্যে এই আইন প্রয়োগ করে আসছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার। শিল্প-সাহিত্য তথা সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করে একটি ফ্যাসিস্ট রেজিম কায়েমের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।
অবস্থান কর্মসূচি সকাল ১০ থেকে ১১ টা পর্যন্ত চলে। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সিলেট জেলা সংসদের আহবায়ক মনীষা ওয়াহিদ। কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরার মুক্তি দাবি করা হয়।
২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে ফেসবুকে একটি ওয়েবিনারের উপস্থাপনা করার সময় এক প্রবাসী এক অতিথির মন্তব্যকে সরকার বিরোধী ও অপপ্রচারমুলক উল্লেখ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপস্থাপক খাদিজাতুল কুবরার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। জানা যায়, অনুষ্ঠানটিতে খাদিজার প্রশ্নগুলো তার অতিথির বক্তব্যের ভেতর থেকেই উঠে আসছিলো। ঘটনার পর রাজধানীর কলাবাগান ও নিউমার্কেট থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয় খাদিজার বিরুদ্ধে। তৎকালীন সময়ে খাদিজার এনআইডিতে ১৭ বছর বয়সী হওয়ার প্রমাণ থাকলেও থানাগুলোতে বাদীপক্ষ হিসেবে পুলিশ একক্ষেত্রে তার বয়স উল্লেখ করে ১৯ ও আরেকক্ষেত্রে ২২।
২০২০ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক খাদিজার নামে মামলা করা হলেও তার পরিবারকে কিছুই জানায়নি পুলিশ। মামলা দায়েরের দুই বছর পর ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে আটক করা হয় মিরপুর থেকে। বিগত আট মাস ধরে কারাগারে বন্দী খাদিজাকে কয়েকবার জামিন নামঞ্জুর করার পর যখন হাইকোর্ট জামিন দেন তখন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। জানা গেছে খাদিজা কিডনী সংক্রান্ত জটিলতায় আক্রান্ত এবং কারাগারে তার ঔষুধ ও চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে না। কিডনীতে পাথর নিয়েই কারাগারে আটকে আছেন খাদিজা শুধুমাত্র এমন কিছু প্রশ্ন করার জন্য যে প্রশ্নগুলো করার অধিকার আছে প্রতিটি নাগরিকের।
অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে জনসাধারণের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় কর্মসূচি থেকে।