ডেস্ক রিপোর্ট

১০ এপ্রিল ২০২৩, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

হবিগঞ্জে নারীকে বেত্রাঘাত ও পাথর নিক্ষেপ মধ্যযুগীয় বর্বরতা: মহিলা ফোরাম

আপডেট টাইম : এপ্রিল ১০, ২০২৩ ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে গত সোমবার গ্রাম্য সালিসে একজন নারীকে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ৮২টি বেত্রাঘাত ও ৮০ টি পাথর নিক্ষেপের শাস্তি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ওই নারী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সালিস থেকে তাকে এক মাস ঘর থেকে বের হতেও নিষেধ করা হয়। তার স্বামী ওমানপ্রবাসী। স্ত্রীর নির্যাতনের খবর পেয়ে তিনি বৃহস্পতিবার দেশে আসেন। নির্যাতনের বিষয়ে বিচারের জন্য তিনি আইনের আশ্রয় নিতেচাইলে গ্রামবাসী তাকে বাঁধা দেয়। এরকম একটি মধ্যযুগীয় বর্বর ঘটনার বিচার চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এর কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সাধারণ সম্পাদক এ্যডভোকেট দিলরুবা নূরী।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, ‘হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ভূক্তভোগী নারীর সাথে যে অত্যাচার করা হয়েছে তা অপরাধ। কোন মানুষ অন্যায় করলে তার বিচার করার দায়িত্ব আইনের। কোন ব্যক্তি বা কোন গোষ্ঠীকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়নি।
গ্রামের মানুষদের কোন অভিযোগ থাকলে তার স্বামী বা অভিভাবককে জানানোর সুযোগ ছিল। সবকিছু এড়িয়ে গ্রাম্য সালিসের নামে এই নির্যাতন কোনভাবেই সভ্যসমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ওই নারীর স্বামীই স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন। পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন অপরাধ যদি হয়, নারী পুরুষ উভয়ই করেছে অথচগ্রামবাসী বিচার করেছে শুধু নারীটির। অথচ যে ব্যক্তি নারীর ব্যক্তিগত মুহুর্তের ভিডিও গোপনে করে ছড়িয়েছেন তার বিচার কে করবে? গ্রামবাসীদের বাঁধা উপেক্ষা করে তিনি মামলা করেছেন। এর প্রেক্ষিতে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘সারাদেশে ওয়াজ ও ফতোয়ার নামে নারীদের মধ্যযুগীয় বর্বর জীবনে আটকে রাখার প্রচেষ্টা প্রতিনিয়ত চলছেই। নারীদের জন্য একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে না পারলে সমাজ থেকে এই মানসিকতা দূর করা সম্ভব না। হাইকোর্ট ফতোয়া দেয়াকে নিষিদ্ধ করেছে অনেক আগেই। গ্রাম্য সালিসের নামে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের অবমাননা করে চলেছেন এই গোষ্ঠী। বর্তমান সময়েও এরকম কূপমন্ডুক চিন্তার প্রসার ঘটানোর আয়োজনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।’

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘প্রত্রিকায় তার স্বামীর বক্তব্যের মধ্য দিয়েই বোঝা যায় যা ঘটেছে তা একটি সাজানো ঘটনা বা ষড়যন্ত্র। অটোচালকের ভিডিওতে শুধু নারীকেই দেখা গিয়েছে। এই ভিডিও পরকীয়ার সম্পর্ক প্রমাণ করে না। এই ঘটনায় অপরাধী হল অটোচালক। একদিকে গোপনে ভিডিও করেছে আবার নারীকে সামাজিকভাবে হেয় করেছে। সালিসে নির্যাতন হওয়ার ক্ষেত্রে সেও অপরাধী।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সারাদেশে ওয়াজ ও ফতোয়ার নামে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য ও মনোভাব দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।

শেয়ার করুন