ডেস্ক রিপোর্ট

৯ মার্চ ২০২৩, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

দড়ি ধরে টান মারার সময় এসেছে: মির্জা ফখরুল

আপডেট টাইম : মার্চ ৯, ২০২৩ ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ‘দড়ি ধরে টান মারার সময় এসেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পদত্যাগ না করলে সরকারের ফয়সালা রাজপথেই করা হবে।

আজ বুধবার বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি খুব সুস্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের সামনে কোনো বিকল্প নাই। এরা (সরকার) সহজে যায় না, এদের ধাক্কা মারতে হয়। আপনাদের অনেকে হীরক রাজার দেশে ছবিটা দেখেছেন না। ছবিতে কী বলছে, দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান। সুতরাং দড়ি ধরে টান মারার সময় এসেছে।’

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব খুব পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন ফয়সালা হবে রাজপথে। রাজপথেই আমরা আছি, রাজপথেই এর মীমাংসা আমরা করব ইনশা আল্লাহ। আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, কোনো কথা বলে লাভ হবে না। এখনো সময় আছে ১০ দফা মেনে পদত্যাগ করুন।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এটাই শেষ সময়, এটা মেনে নেন। তা না হলে বারবার একই কথা বলছি, আবারও বলছি, পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। এই কথা বললে আপনাদের গায়ে লাগে। বলেন, কোথায় পালাব। পালিয়েছেন তো অতীতে। সব পালিয়েছেন। কেউ পাকিস্তানে পালিয়েছেন, কেউ ভারতে পালিয়েছেন ১৯৭১ সালে। এবার কিন্তু সেই পথও খুঁজে পাবেন না।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১৭তম কারাবন্দী দিবস উপলক্ষে বিএনপি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই কারাবন্দী দিবস তখনই আমাদের সফল হবে, যখন গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এদের পরাজিত করে জনগণের সরকার, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করতে পারবে, আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারব, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব—তাহলেই হবে সফলতা।’

পঞ্চগড়ের ঘটনা আওয়ামী লীগের সৃষ্টি
মির্জা ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘পঞ্চগড়ের হামলার ঘটনায় আমাদের জড়ানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন যে বিএনপিও জড়িত আছে। এর উদ্দেশ্যটা কী? উদ্দেশ্য বিএনপিকে আবার সাম্প্রদায়িক ঘটনার জন্য দায়ী করে ‍উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে চায়। কিন্তু এখন আর জনগণ তাদের সেই মিথ্যা মন্তব্য শুনবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মানুষ খুব ভালো করে জানে যে আওয়ামী লীগ চক্রান্তমূলকভাবে নিজেরাই এই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের (সরকার) রেলমন্ত্রী সেখানে গিয়েছিলেন। রেলমন্ত্রী যখন সেখানে গেছেন তখন আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকদের জিজ্ঞাসা করেছেন এর জন্য দায়ী কে, কারা করেছে? তখন তাঁরা বলেছেন, আপনার (মন্ত্রী) পাশে যারা যারা আছে, তারাই এ জন্য দায়ী।’

কীভাবে দেশ চালায়? এমন প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘পরপর তিন দিন বিস্ফোরণ হলো। সায়েন্স ল্যাবরেটরির কাছে হলো, চট্টগ্রামে হলো, ঢাকায় গতকালের বিস্ফোরণে ১৯ জন প্রাণ দিয়েছেন। কারও কোনো দায় নেই। সরকার চালাচ্ছ তোমরা? তোমাদের সব প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের দায়িত্ব হচ্ছে এগুলো দেখা যে কোথায় ঠিকমতো আছে কি না, সেগুলোর দিকে তোমাদের কোনো নজর নেই। নজর একটাই চুরি করা, দুর্নীতি করা।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

 

শেয়ার করুন