ডেস্ক রিপোর্ট

৮ মার্চ ২০২৩, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

সাম্যসমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে-বগুড়ায় মহিলা ফোরামের সমাবেশ

আপডেট টাইম : মার্চ ৮, ২০২৩ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

শেয়ার করুন

অধিকার ডেস্ক: ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সম কাজে সম মজুরী, কর্মক্ষেত্র ও গণ পরিবহনসহ সকল স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নারীর মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম বেগবান করা এবং সাম্যসমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে- সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ৮ মার্চ ২০২০ বেলা: ১২:০০ টায় সাতমাথায় মানববন্ধন-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলা সভাপতি রাধা রানী বর্মন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ বগুড়া জেলা আহবায়ক সাইফুল ইসলাম পল্টু, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বগুড়া জেলার সহ-সভাপতি রাধা রানী বর্মন, সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আক্তর অ্যানি, অর্থ সম্পাদক নিয়তি সরকার প্রমূখ।

কমরেড সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের চেতনার মূলে ছিল নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং শোষণ-বৈষম্যহীন সাম্য সমাজ গড়ার আহবান। নারীদিবস ঘোষণার ১১৩তম বছর এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫১ বছর পরেও আমাদের দেশের নারীরা সমাজিক-পারিবারিক জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রে সম-অধিকার থেকে বঞ্চিত। এতবছর পর এখনও সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়নি। কোন সরকারই সিডও সনদের দুটি ধারা থেকে আপত্তি তুলে নেয়নি। ‘সমকাজে সমমজুরি’ আইনে থাকলেও প্রায় সকল অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের (নির্মাণ কাজ, চাতাল, ক্ষেতমজুর ইত্যাদি) নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তার বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে ঘরে-বাইরে সর্বত্র নির্যাতন-ধর্ষণ-যৌন হয়রানী। এই অবস্থা থেকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র নারীদের মুক্ত করতে পারবে না। তাই নারী- পুরুষ সকলে মিলে এই বৈষম্যার- ভোগবাদী সমাজ ভাঙ্গার আন্দোলন ঐক্যবদ্ধ ভাবে গড়ে তুলতে হবে।
কমরেড দিলরুবা নূরী বলেন, পুঁজিবাদ মানুষের অসহায়ত্ব, মানুষের আবেগ-অনুভূতি-মূল্যবোধ, নারীর মর্যাদা, নারীর শ্রম-সৌন্দর্য সকল কিছু নিয়েই ব্যবসা করছে। তাই নারীকে একই সাথে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে এবং পুঁজিবাদী-ভোগবাদী বৈষম্যমূলক সমাজ ভাঙ্গার লড়াইয়ে শামিল হতে হবে।

সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম মনে করে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে সাম্য সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সাথে যুক্ত করত হবে। কোন একটা সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী কতখানি অধিকার ও মর্যাদা পেয়ে থাকে তার উপর নির্ভর করে ঐ সমাজ বা রাষ্ট্র কতটুকু গণতান্ত্রিক। তাই ৮ মার্চ অন্তর্জাতিক নারী দিবসের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারীর মানবিক মর্যাদা ও সমঅধিকার এবং সাম্যসমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানবিক-গণতান্ত্রিক চেতনা সম্পন্ন সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহবান জানান।

অন্যন্য নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের ৮১ ভাগ আসে গার্মেন্টস খাত থেকে। গার্মেন্টস শ্রমিকরা জাতীয় আয়ের ৩৪ ভাগের বেশি যোগান দেয়। আর এই গার্মেন্টস্ খাতের ৭০ ভাগ শ্রমিকই নারী যাদেও সংখ্যা ৪০ লক্ষ। যদিও প্রশিক্ষণের সুযোগ না পাওয়ায়,কাজের উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় এই শ্রমিকের সংখ্যা কমছে। এই শ্রমিকগণ কারখানায় ১০-১৪ ঘন্টা শ্রম দিতে বাধ্য হয়। গার্মেন্টস্এ ২০১৮ সালে যে মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল সেই সময়ের চেয়ে বর্তমানে ৭০-৮০ ভাগ ব্যায় বৃদ্ধি হয়েছে কিন্তু মজুরি বৃদ্ধি করা হয়নি। তাই নেতৃবৃন্দ নারীর মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার কারার আন্দোলনে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

শেয়ার করুন